বিকল্প ও স্বল্প কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানি ব্যবহারের চাহিদা ও ব্যবহার বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রয়াস ফুয়েলইইউ মেরিটাইম ইনিশিয়েটিভ আলোর মুখ দেখতে চলেছে। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) ইউরোপীয় কাউন্সিল উদ্যোগটিতে অনুমোদন দিয়েছে। এটি ছিল ফুয়েলইইউ কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বশেষ অনুমোদন।
বছর দুয়েক আগে নিঃসরণবিরোধী বৃহত্তর উদ্যোগ ফিট ফর ৫৫ প্যাকেজ ঘোষণা করে ইইউ। এই কর্মসূচিরই একটি অংশ হলো ফুয়েলইইউ। ফিট ফর ৫৫ প্যাকেজে ২০৩০ সাল নাগাদ ইইউর গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৫৫ শতাংশ কমানো এবং ২০৫০ সাল নাগাদ কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অবদান রাখার পথ তৈরি করে দেবে ফুয়েলইইউ।
সমুদ্র শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনসহ (আইএমও) অন্যান্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় ইইউর ফুয়েলইইউ উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবেশবাদীরাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ফুয়েলইইউতে কার্বন ইনটেনসিটি পর্যায়ক্রমে কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সাল নাগাদ ইনটেনসিটি মাত্র দুই শতাংশ কমানোর কথা বলা হলেও ২০৫০ সাল নাগাদ তা ৮০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে আর্থিক অনুদান প্রদানের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ওপর শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে ফুয়েলইইউতে। কার্বন শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে যে তহবিল জমা হবে, সেটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ও গবেষণা, ব্যবহারে প্রণোদনাসহ সার্বিকভাবে সমুদ্র শিল্পকে কার্বনমুক্ত করার প্রক্রিয়ার সহায়তায় কাজে লাগানো হবে।