নতুন ট্যাংকার, বিশেষ করে প্রডাক্ট ট্যাংকার নির্মাণের কার্যাদেশে মন্দা চলছিল অনেকদিন ধরেই। তবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রডাক্ট ট্যাংকারের কার্যাদেশে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিলের (বিমকো) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যে পরিমাণ প্রডাক্ট ট্যাংকারের কার্যাদেশ এসেছে, তা ২০২২ সালে পুরো বছরের কার্যাদেশের চেয়ে বেশি।
সমুদ্র পরিবহন বিশ্লেষক ফিলিপ গৌভেইয়া বলেছেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশেষ করে রাশিয়ার অয়েল প্রডাক্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রডাক্ট ট্যাংকারের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়া থেকে ইউরোপে পাইপলাইনের মাধ্যমে অয়েল প্রডাক্ট পরিবহন বন্ধের পর এখন সমুদ্রপথে পরিবহনের পরিমাণ ও দূরত্ব বেড়েছে। এতে ফ্রেইট রেট ও নতুন ট্যাংকারের চাহিদা দুটোই বাড়তির দিকে রয়েছে।’
বিমকোর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে মোট ৮৯ লাখ ডিডব্লিউটি প্রডাক্ট ট্যাংকারের কার্যাদেশ এসেছে। বছরওয়ারি তা ৩৩৭ শতাংশ বেশি। নতুন কার্যাদেশের এই পরিমাণ বিদ্যমান বহরের ৯ শতাংশের বেশি, যেখানে এক বছর আগে এই হার ছিল ৫ শতাংশের সামান্য বেশি।
নতুন কার্যাদেশের বেশিরভাগই এসেছে এলআর টু ক্যাটাগরির। ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ডিডব্লিউটির প্রডাক্ট ট্যাংকারগুলো এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। বিমকো জানিয়েছে, প্রথমার্ধে মোট ৫৬ লাখ ডিডব্লিউটি এলআর টু নির্মাণের কার্যাদেশ এসেছে, যা বিদ্যমান বহরের ২১ শতাংশ।
এছাড়া ৪৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডিডব্লিউটির ছোট আকারের এলআর ওয়ান ক্যাটাগরির ১০টি নতুন ট্যাংকার নির্মাণের কার্যাদেশ এসেছে প্রথমার্ধে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম এলআর ওয়ান ক্যাটাগরির নতুন প্রডাক্ট ট্যাংকার নির্মাণের কার্যাদেশ পেল ইয়ার্ডগুলো।