আরব সাগরে গোয়া উপকূলে বিকল হয়ে পড়া একটি গবেষণা জাহাজকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। প্রতীকূল আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভাসতে থাকা জাহাজটিকে টেনে গোয়ার বেজ পোর্টে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বাহিনীটির একাধিক সহায়তাকারী জাহাজ।
বিকল হয়ে পড়া জাহাজটির নাম আরভি সিন্ধু সাধনা। ৪ হাজার ১৫৪ গ্রস টনের জাহাজটি ভারতের একমাত্র সমুদ্রগামী গবেষণা জাহাজ। এটি পরিচালনা করে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অব দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (সিএসআইআর-এনআইও)। এক দশক আগে যাত্রা করা জাহাজটি আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও ওশানোগ্রাফিক রিসার্চের কাজে ব্যবহৃত হয়।
২৬২ ফুট দীর্ঘ সিন্ধু সাধনা একটানা ৪৫ দিন পর্যন্ত গভীর সাগরে কার্যক্রম চালাতে সক্ষম। এর স্বাভাবিক গতি ১৩ দশমিক ৪ নটিক্যাল মাইল। জাহাজটিতে সমুদ্র গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু সেন্সর ও সরঞ্জাম সংযুক্ত রয়েছে। জাহাজটির বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সাগরের গভীর অংশের তলদেশ থেকেও পলির নমুনা সংগ্রহ করতে পারে, যা নতুন খনিজ পদার্থ, হাইড্রোকার্বন সম্পদ এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ অনুসন্ধানে বড় ভূমিকা রাখে।
সিন্ধু সাধনার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) তথ্য থেকে জানা যায়, ২৪ জুলাই এটি গোয়ার মোরমুগাও বেজ পোর্ট থেকে গভীর সাগরের উদ্দেশে রওনা হয়। ২৭ জুলাই জাহাজটির কাছ থেকে একটি সাহায্যবার্তা পায় কোস্ট গার্ড। সে সময় এটি উপকূল থেকে আনুমানিক ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রায় ৩ নটিক্যাল মাইল গতিতে ভাসছিল। এক সময় জাহাজটি বাস্তুতান্ত্রিকভাবে সংবেদনশীল কারওয়ার উপকূলে গিয়ে আটকা পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। জাহাজটিতে আটজন বিজ্ঞানী ও ৩৬ জন ক্রু ছিলেন।
বার্তা পেয়ে কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে একাধিক সাহায্যকারী জাহাজ পাঠায়। পরে তারা সিন্ধু সাধনাকে টেনে নিরাপদে গোয়ার বেজ পোর্টে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।