বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিবন্ধনকারী শীর্ষ দেশ (ফ্ল্যাগ স্টেট) হিসেবে জায়গা করে নেওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে পানামা ও লাইবেরিয়া। গত দুই দশক ধরে এই শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে পানামা। তবে তাদের জন্য জায়গাটি নড়বড়ে করে তুলেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া। একটি মানদণ্ডে তারা এরই মধ্যে পানামাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে বাকি মানদণ্ডগুলোয় মধ্য আমেরিকার দেশটি এখনও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে অথবা সমতায় রয়েছে।
মেরিটাইম ও শিপিং খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লার্কসন রিসার্চ সম্প্রতি জুলাই মাসের বাজার বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, মোট গ্রস টনেজের দিক থেকে নিবন্ধনকারী দেশ হিসেবে পানামাকে পেছনে ফেলেছে লাইবেরিয়া। বর্তমানের দেশটির পতাকাবাহী জাহাজগুলোর মোট গ্রস টনেজ ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টন, যা পানামার চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ বেশি। অবশ্য দেশ দুটির বাজার অংশীদারিত্ব সমান-১৬ শতাংশ।
তবে জাহাজের সংখ্যার দিক থেকে পানামার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে লাইবেরিয়া। পানামার বহরে রয়েছে ৮ হাজার ২০০ টির বেশি জাহাজ। অন্যদিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা পাঁচ হাজারের সামান্য বেশি।
এদিকে আইএইচএস মার্কিটের প্রতিবেদনে পানামা এখনো ফ্ল্যাগ স্টেটের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, পানামায় নিবন্ধিত জাহাজগুলোর মোট গ্রস টনেজ ২৪ কোটি ৯৮ লাখ টন, যা লাইবেরিয়ার চেয়ে ১ শতাংশ বেশি। মার্কিটের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত লাইবেরিয়ার জাহাজ নিবন্ধন বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এদিকে বছরের প্রথমার্ধে পানামার গ্রস টনেজ নিবন্ধন বেড়েছে ৫৯ লাখ টন।
এসব পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে জাহাজ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পানামা ও লাইবেরিয়ার পরষ্পরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা কতখানি। উভয়েই তাদের অবস্থান আরও সুসংহত করা এবং জাহাজমালিকদের জন্য উদ্ভূত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দূর করার বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে। সুতরাং এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে শীর্ষ ফ্ল্যাগ স্টেট হওয়ার যে প্রতিযোগিতা দেশ দুটির মধ্যে শুরু হয়েছে, তা সহসাই শেষ হচ্ছে না।