চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। তিনি বিগত সময়ের নানা অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য, অগ্নিদুর্ঘটনা ও ডিজিটালাইজেশনে বাধাসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বন্দরের নানা যুগোপযোগী সংস্কার করেছেন।

ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর হ্যান্ডলিং রেকর্ড, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম হ্রাস, ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি, সর্বাধিক মুনাফা অর্জন, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, ডিজিটাইজেশন, ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএসের জিরো অবজারভেশন প্রভৃতি বিষয়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

তিনি প্রতিনিধিদলকে জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে বন্দরটি বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচল ও প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার নৌ বাণিজ্য হাবে পরিণত হবে যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। এতে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা রেফার কনটেইনার সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের ব্যাপারে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান।

তা ছাড়া বন্দরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ইতিবাচক ভূমিকা থাকার কারণে বন্দরে নির্বিঘ্নে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মর্মে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বন্দরকে আরো দক্ষ, অধুনিক ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশে বন্দর কেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য খালাস কাজে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিত কামনা করেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক ইউনিট প্রধান মাইকেল পেনাল, কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রোস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফিরোজ আহমেদ, আসিফ আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক ও সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here