চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন পূর্ব পতেঙ্গা মৌজার ১৪ নং খাল এলাকায় ০৭ (সাত) একর জায়গাটি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের (সাইফ পাওয়ারটেকের সিস্টার কনসার্ন) আবেদনের প্রেক্ষিতে ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ও পিসিটির জেটি নির্মাণের কাজে ২০১৮ সালে অস্থায়ীভাবে ৬ (ছয়) মাসের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছিল। বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত বন্দরের ভাড়া পরিশোধ না করে দখলে রাখায় জায়গাটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। ইজারা ও জায়গার নদীমুখ ২০ (বিশ) বছর মেয়াদী (নবায়নযোগ্য) লাইসেন্স প্রদানের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র (একধাপ-দুইখাম পদ্ধতিতে) আহবান করে ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেডকে প্রচলিত সকল বিধি এবং পিপিআরের সকল নিয়ম নীতি মেনে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করায় বন্দর কর্তৃপক্ষ চার কোটি বিয়াল্লিশ লাখ টাকা পরিশোধের চাহিদাপত্র প্রেকরে এবং বন্দরের বোর্ড সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভূমির বরাদ্দ বাতিলপূর্বক জমির দখল বন্দরের বরাবরে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বিগত ১৬ জুলাই ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করে।
ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড ৭ একর জমিতে ISPS Code অনুযায়ী একটি আর্ন্তজাতিক মানের টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ পূর্বক Details Drawing, Design এর অনুমোদন গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ যথেষ্ট ব্যয়সাধ্য বিবেচনায় চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ২ (দুই) বছর Grace Period প্রদানের জন্য বন্দরকে অনুরোধ করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে চবক বোর্ডে সার্বিক বিবেচনায় ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড বরাবরে জায়গার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ২ (দুই) বছর ভাড়া আরোপ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর আগেও বিভিন্ন জেটি/টার্মিনাল নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মেয়াদে গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা হয়েছিল। ২ (দুই) বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকা সত্ত্বেও ট্রান্সমেরিন লজিষ্টিকস লিমিটেড ইতিমধ্যে ১৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ এপ্রিল অগ্রীম পরিশোধ করে। এ টাকা বন্দর ইতিমধ্যে সোনালী ব্যাংকে এফডিআর করেছে, যার বিপরীতে ৮.৭৫% হারে লভ্যাংশ প্রাপ্য হবে। অর্থ্যাৎ এফডিআর বাবদ বন্দর বার্ষিক ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা লভ্যাংশ প্রাপ্য হবে, যা পূর্বে ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লি: এর বার্ষিক ভাড়া ৯০ লাখ টাকার বেশী।
পরবর্তীতে ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড ইজারাকৃত জমির দক্ষিণ পাশে লাগোয়া বন্দরের মালিকানাধীন কমবেশী ৩.৬৬ একর পতিত জমি ও ৯৫ মিটার নদীমুখ আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার সুবিধার্থে তাঁদের বরাবরে বরাদ্দ প্রদানের জন্য চবক বরাবরে আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাই বাছাই করে বোর্ড অতিরিক্ত ৩.৬৬ একর জায়গা ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড বরাবরে উন্মুক্ত দরপত্রে প্রাপ্ত Rate অনুযায়ী বরাদ্দ প্রদানের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়, যা প্রতি ৬ (ছয়) মাস পরপর নবায়ন করতে হবে। এছাড়াও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যে কোন সময় বরাদ্দ বাতিলের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ১৯৯৮ এর ৬নং বিধিতে উল্লেখিত, ‘‘চবক বোর্ড সংরক্ষিত এলাকার বাহিরে যে কোন ভূ-সম্পত্তি বা স্থাপনা দরপত্র ব্যতীত ভাড়া, লাইসেন্স ফি বা অন্যান্য প্রাসংগিক শর্ত নির্ধারণপূর্বক অনধিক ৬ (ছয়) মাসের জন্য ভাড়া বা লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবে’। নীতি মেনেই এ বরাদ্দ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
১০.৬৬ একর জায়গার বিপরীতে বন্দর বার্ষিক রেভিনিউ পাবে ২২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যেখানে ইতোপূর্বে একই জায়গার বিপরীতে বার্ষিক আয় হতো মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ফলে এটা স্পষ্ট যে, ১০.৬৬ একর জায়গার বিপরীতে প্রায় ১৮ (আঠারো) গুণ বেশী রাজস্ব আয় লাভ করছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অনুমান নির্ভর। এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো।


