নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার চলাচল বৃদ্ধি এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এটি দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।
কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (পিআইসিটি) সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে দক্ষ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাভজনক ও কার্যকর করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ও কনটেইনার টার্মিনালসমূহেও বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে মেডলগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, ২২ বছরের এই কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালে পণ্য আনা–নেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের এই সম্মিলিত প্রয়াস নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. টি. এম. আনিসুল মিল্লাত। তিনি মেডলগ ব্যবস্থাপনার অধীনে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালের ভিশন, আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ও পরিচালনাগত রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালটি গত এক দশক ধরে লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় সরকার দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় এর কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত ২২ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালটির পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণের দায়িত্ব পেয়েছে মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড।



