শ্রীলংকা উপকূলে ডুবে যাওয়া কনটেইনার জাহাজ এক্স-প্রেস পার্লের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে কাজ করবে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান সাংহাই স্যালভেজ কোম্পানি। সম্প্রতি শ্রীলংকা সরকার ও কোম্পানিটির মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। তবে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ পানির তলদেশ থেকে তুলে আনার আগে এর বিভিন্ন সরঞ্জাম অপসারণ করবে ফ্লোরিডাভিত্তিক কোম্পানি রিজলভ মেরিন। সম্প্রতি শ্রীলংকার আইনসভাকে দেশটির বিচারমন্ত্রী আলী সাবরি বিষয়টি অবহিত করেছেন।
আলী সাবরি জানান, প্রথম পর্যায়ে রিজলভ মেরিন ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে সরঞ্জামগুলো অপসারণ করবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে সাংহাই স্যালভেজ জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ তুলে আনবে। এই প্রক্রিয়ায় যে ব্যয় হবে, তা বহন করবে বিমা কোম্পানি।
চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাংহাই স্যালভেজ ব্যুরো (সাংহাই স্যালভেজ কোম্পানি নামেই বেশি পরিচিত) তাদের কার্যক্রম সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। শ্রীলংকায় এক্স-প্রেস পার্লের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া তাদের এই প্রচেষ্টারই অংশ।
গত মে মাসে শ্রীলংকা উপকূলে এক্স-প্রেস পার্লের ট্যাংকার লিকেজ হয়ে নাইট্রিক অ্যাসিড ছড়িয়ে পড়ে ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সপ্তাহ দুয়েক ধরে জ্বলার পর ২ জুন জাহাজটি ডুবে যেতে শুরু করে। এ ঘটনায় পরিবেশ বিপর্যয় ও সাগরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করেন পরিবেশবীদরা। জাহাজটির জ্বালানি ট্যাংকগুলো থেকে তেল বেরিয়ে গেলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে- এই শঙ্কায় তারা সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষায় জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ অপসারণে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এক্স-প্রেস পার্ল ডুবে যাওয়ার পর জাহাজটি থেকে শত শত টন পেলেট (প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত) পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া অপচনশীল অনেক বর্জ্য ভেসে গিয়ে শ্রীলংকার পশ্চিম উপকূলের সৈকতে জমা হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ টন পেলেট শ্রীলংকার সৈকত থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় পরিবেশগত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জাহাজটির মালিক ও বিমা কোম্পানির সঙ্গে শ্রীলংকা সরকারের এখনও আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত যদি কোনো চুক্তি চূড়ান্ত না হয়, তবে বিচার মন্ত্রণালয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আলী সাবরি জানিয়েছেন।