দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু শিপবিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং (ডিএসএমই) অধিগ্রহণ করতে চেয়েছিল স্বদেশী জায়ান্ট হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ। কিন্তু গত জানুয়ারিতে তাদের এই পরিকল্পনায় বাধ সাধে ইউরোপীয় কমিশন (ইসি)। কমিশনের আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত আর অধিগ্রহণ পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি।
অধিগ্রহণের পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও ইসির সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেয়নি হুন্দাই। এ কারণে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ নথিভুক্ত করেছে তারা।
হুন্দাই জানিয়েছে, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা দাইয়ুকে কেনার অপেক্ষায় রয়েছে এখনও। বরং বিকল্প ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে তারা। এমনকি যদি নতুন করে দাইয়ু বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাতেও অংশ নেবে না হুন্দাই।
হুন্দাই কোরীয় কোম্পানি। দাইয়ুও তাই। তাহলে এই অধিগ্রহণে ইসির আপত্তি কেন? আর তাদের আপত্তি হুন্দাই কানেই বা তুলল কেন? প্রথমত, ইসি অধিগ্রহণটির বিরুদ্ধে রয়েছে কারণ তারা মনে করছে এর ফলে বাজার প্রতিযোগিতা হুমকির মুখে পড়ে যাবে। আর তাতে জাহাজ কিনতে ক্রেতাদের ব্যয় বেড়ে যাবে। তবে এই অধিগ্রহণে বাধা দেওয়ার আইনগত কোনো অধিকার ইসির ছিল না। এ কারণে উদ্যোগটি ঠেকাতে তারা যেটি করেছে সেটি হলো, অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে। আর এই শুল্ক আরোপ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ত হুন্দাইয়ের জন্য।
বড় আকারের এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাণে বাজার আধিপত্য নিশ্চিত করার জন্য ইইউর বাজার হুন্দাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তারা ইসির সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরুদ্ধে যায়নি। বরং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এরই অংশ হিসেবে গত ২৩ মার্চ ইইউর জেনারেল কোর্টে লিগ্যাল চ্যালেঞ্জ নথিভুক্ত করে তারা।