জুলাই ও আগস্টে জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে ওপেক প্লাস। এদিকে নিজেদের পেট্রোলিয়ামের কৌশলগত মজুদ উন্মুক্ত করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি। মূলত ইউক্রেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার জেরে রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানিতে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর ফলে রাশিয়া থেকে ইউরোপের জ্বালানি তেল আমদানি দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসবে।
২ জুন ওপেক প্লাসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জুলাইয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোর দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানো হবে। আগস্টেও উত্তোলন একই পরিমাণ বাড়ানো হবে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, জুন মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি উত্তোলন দৈনিক ৪ লাখ ৩২ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর পূর্বনির্ধারিত নীতিতেই অটল থাকবে ওপেক প্লাস। তবে সর্বশেষ বৈঠকে উত্তোলন বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
সমুদ্রপথে আমদানিতে ইইউর নিষেধাজ্ঞার ফলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া থেকে অঞ্চলটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি দৈনিক ১৯ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমবে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে পাইপলাইনের মাধ্যমে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র রাশিয়া থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করছে।
এদিকে জুলাই ও আগস্টের মধ্যবর্তী সময়ে নিজেদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল সোর ক্রুড (উচ্চমাত্রার সালফারযুক্ত অপরিশোধিত তেল) ও ১১ লাখ ব্যারেল সুইট ক্রুড (অল্প পরিমাণে হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত) উন্মুক্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত এটাই দেশটির সর্বোচ্চ কৌশলগত মজুদ উন্মুক্তকরণ।