প্রাচীন ও মধ্যযুগে বহুল ব্যবহৃত নেভিগেশনাল ইকুইপমেন্ট ক্রস স্টাফ, যাকে স্থানভেদে ফোর-স্টাফ বা জ্যাকব’স স্টাফ নামে ডাকা হতো। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ শতক থেকে শুরু করে ১৮ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং দিগন্ত রেখায় কোনো বস্তুর উচ্চতা ও দূরত্ব মাপতে নাবিকদের কাছে নির্ভরযোগ্য যন্ত্র ছিল এটি। দিগন্ত রেখার সাথে দিনের বেলায় সূর্য এবং রাতে শুকতারা বা অপর কোনো উজ্জ্বল নক্ষত্র যে কোণ উৎপন্ন করে, সেটি মাপা যায় ক্রস স্টাফের ১০, ৩০, ৬০ ও ৯০ ডিগ্রি কোণ চিহ্নিত ট্রানসম নামক একটি অংশের সাহায্যে। কৌণিক মান জানা থাকলে একজন নাবিক সহজেই নিজের অবস্থান, জাহাজের অভিমুখ, ল্যাটিচিউড এবং লংগিচিউড বের করতে পারেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) ক্যালডীয় সভ্যতার নাবিকদের হাতে ক্রস স্টাফের জন্ম হলেও একে নিখুঁত করে তোলার কৃতিত্ব আরবদের। ধীরে ধীরে পারস্য অঞ্চলেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ক্রস স্টাফ। দ্বাদশ শতাব্দীতে ইউরোপ-এশিয়ার মধ্যবর্তী বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে ক্রস স্টাফ প্রথমে দক্ষিণ, পরে উত্তর ইউরোপেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কাঠের নির্মিত এবং নড়ানো যায় এমন চারটি কাঠের হাতল পরস্পর ছেদ করে যে ক্রস আকৃতি তৈরি করে, তার ছেদন বিন্দুকে চোখের কাছে ধরে একজন নেভিগেটর কোনো কিছুর উচ্চতা নির্ণয় করতে পারেন। ক্রস স্টাফ ব্যবহারে চ্যালেঞ্জও কম ছিল না। সূর্যের দিকে তাকিয়ে যেসব নাবিক নিয়মিত কোণ মাপতেন, তাদের চোখের স্থায়ী ক্ষতি বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটত প্রায়ই। আবার ক্রস স্টাফ ব্যবহারকারীকে দুদিকে একই সাথে চোখ রাখতে হতো, যন্ত্রের নিচের অংশ দিগন্তে এবং উপরের অংশ সূর্য বা নক্ষত্রের দিকে। নইলে হিসাবে বড় ধরনের গরমিল দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ১৭৫০ সালের দিকে অকটেন্ট আবিষ্কার হওয়ার পর ধীরে ধীরে কালের গহ্বরে হারিয়ে যায় ক্রস স্টাফ।