চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প নিয়ে পূর্ব ইউরোপে সন্দেহ ঘনীভূত

পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের (সিইই) সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ২০১২ সালে গঠিত হয় ১৭+ উদ্যোগ। দেশটির বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সম্প্রসারণ হিসেবে একে দেখা হলেও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এটা নিয়ে আগ্রহের পাশাপাশি ছিল দ্বিধা ও সন্দেহ। গঠনের প্রায় এক দশকেও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে সেই বিভ্রান্তির অবসান হয়নি, বরং বেড়েছে বহুগুণ।

মূলত তিনটি কারণে চীন সম্পর্কে ইউরোপীয়দের দ্বিধা এখনো কাটেনি। প্রথমত, ১৭+ সম্মেলনগুলোয় চীনের জোরালো প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সিইই দেশগুলোয় দেশটির বিনিয়োগ হয়েছে সামান্যই। অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে চীনের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এখনো প্রতিশ্রুতিই রয়ে গেছে। ১৭+ উদ্যোগের অধীনে নেওয়া ৪০টির মতো প্রকল্পের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র চারটি।

দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ সিইই দেশ এখন চীনের ওপর অতি নির্ভরশীলতার রাজনৈতিক ফল নতুন করে মূল্যায়ন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুরু থেকেই চীনের এ উদ্যোগকে মহাদেশটিকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখে আসছে। সেই অবিশ্বাসের মধ্যে চেক, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়া নিয়ে গঠিত ভাইজগ্রাদ গ্রুপকে চীন আলাদা শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করলে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়। কারণ অভিবাসন এবং মানবাধিকার নিয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে দেশগুলোর মতানৈক্য রয়েছে।

তৃতীয়ত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা অধিকাংশ সিইই দেশকে আরো সতর্ক করে তুলেছে। কারণ এতে তাদের অন্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। ফাইভজি নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে হুয়াওয়ে বিতর্ক ক্রোয়েশিয়া, চেক, এস্তোনিয়া, রোমানিয়া, সার্বিয়া ও স্লোভেনিয়াকে সাবধান করেছে। 

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিইই দেশগুলোর মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি করেছে, যা ১৭+ উদ্যোগের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here