নতুন জাহাজের বৈশ্বিক চাহিদা এখন তলানিতে

বিশ^ব্যাপী নতুন জাহাজ নির্মাণাদেশ ৩০ বছরের সর্বনিম্ন এসে ঠেকেছে। ডেনমার্কের মেরিটাইম শিল্পের স্বার্থসুরক্ষাকারী সংগঠন ড্যানিশ শিপিংয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের পর চলতি বছর সবচেয়ে কম নতুন জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়া গেছে।

বাজার অনিশ্চয়তা এবং করোনাভাইরাসের কারণে চাহিদায় ঘাটতি নতুন জাহাজ নির্মাণাদেশ কমার কারণ বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেড ওয়েট টনেজে পরিমাপকৃত বিদ্যমান বৈশ্বিক বহরের অনুপাতে নতুন জাহাজের নির্মাণাদেশ কমেছে ৭ শতাংশ, যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বনিম্ন। আর ২০১৫ সালের পর নতুন জাহাজ নির্মাণাদেশের সংখ্যা কমেছে ৪১ শতাংশ। ড্যানিশ শিপিংয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছর নতুন কনটেইনার, ট্যাংকার বা ড্রাই কার্গো ভেসেল নির্মাণের আগ্রহ এখন প্রায় তলানিতে।

চলতি শতকের শুরুতে জাহাজ নির্মাণে জোরালো প্রবৃদ্ধি দেখা যায়। তবে নির্মাণাদেশ সর্বোচ্চে পৌঁছে ২০০৯ সালে। ওই বছর নতুন কার্যাদেশ আসে বৈশ্বিক বিদ্যমান বহরের প্রায় ৫২ শতাংশ। পরের বছরগুলোয় নির্মাণাদেশে কিছুটা স্লথতা দেখা দেয়, যদিও ২০১৪ সালে তা সামান্য বাড়ে।

ড্যানিশ শিপিং কোম্পানিগুলো চলতি বছর সেই একই প্রবণতা অনুসরণ করছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরে নতুন জাহাজের কার্যাদেশ কমেছে ৪৫ শতাংশ। বর্তমানে ৫১টি ভেসেল নির্মাণের কার্যাদেশ রয়েছে, যার মোট ওজন মাত্র ১৫ লাখ টন। ড্যানিশ শিপিং জানিয়েছে, নতুন জাহাজ নির্মাণাদেশে অনাগ্রহ করোনাভাইরাস মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেছে। চাহিদা কমায় শিপিং কোম্পানিগুলো কিছুটা রক্ষা পাচ্ছে। কারণ বহরের আকার কমার অর্থ হচ্ছে ভাড়ার হার বৃদ্ধি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here