বাংলাদেশে পুরনো জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডগুলো শ্রমিকদের জন্য আরো নিরাপদ করে তোলার উদ্যোগ করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আরো পিছিয়ে গেছে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ ইয়ার্ডগুলো বর্তমানে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে ২০২৩ সালের মধ্যে এগুলো সংস্কারের যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা পূরণ না-ও হতে পারে।
বিশে^র পুরনো অধিকাংশ জাহাজের শেষ ঠিকানা বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় ৭০টি ইয়ার্ডের সবগুলোই ‘শিপ রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটি প্ল্যানস’ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলো কীভাবে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে পরিচালিত হবে, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এ পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে। সংস্কার উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য-এ শিল্পকে নিরাপদ করতে বৈশ্বিক সন্ধিতে যুক্ত হতে বাংলাদেশ যে প্রস্তুত তা তুলে ধরা।
তবে পিএইচপি শিপব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ হচ্ছে একমাত্র ইয়ার্ড, যারা এ সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সংস্কার পরিচালনা বাস্তবায়নে যে নিরাপত্তা মানদ- অনুসরণ করতে হয় তা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। আমরা অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণে এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছি। সংস্কার পদক্ষেপের কারণে আমাদের ইয়ার্ডে ঝুঁকি এখন শূন্যে নেমে এসেছে।’
তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কয়েক মাস ধরে ইয়ার্ডগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইয়ার্ডগুলোয় যতটা অগ্রগতি হয়েছিল, ভাইরাসের কারণে পুনরায় পিছিয়ে যাওয়ায় তা প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী যে ৬৭০টি জাহাজ ভাঙা হয়েছিল, তার এক-তৃতীয়াংশ ভাঙা হয় বাংলাদেশে।