২০২০ সালে এশিয়াজুড়ে জাহাজে ডাকাতি বা চুরির ঘটনা বেশ বেড়েছে। দ্য রিজিয়নাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রোবারি অ্যাগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া (রিক্যাপ) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সদ্যসমাপ্ত বছরে এ অঞ্চলে মোট ৯৫টি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ঘটেছিল ৮৩টি।
রিক্যাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ চীন সাগর এবং সিঙ্গাপুর প্রণালিসহ এশিয়া অঞ্চলজুড়ে চুরি বা ডাকাতির ওই ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে, যার অধিকাংশই জাহাজ থেকে সরঞ্জাম বা মালামাল চুরিসংক্রান্ত। রিক্যাপ জানিয়েছে, তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অপরাধীরা সশস্ত্র ছিল না এবং জাহাজের নাবিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দুষ্কৃতিকারীদের উপস্থিতি নাবিকরা টের পাওয়ার পরই তারা জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ডাকাতির ঘটনায় নাবিকদের অপহরণ করা হয়।
সিঙ্গাপুর প্রণালি ধরে পূর্বমুখী চলাচলরত জাহাজগুলো এখনো বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে ডাকাতির ঘটনা ১০ শতাংশ বেড়ে ৩৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ঘটেছে পূর্বমুখী ভেসেলগুলোয়। এছাড়া ছোটখাটো চুরির ঘটনা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে ভারত, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ চীন সাগরে। বাংলাদেশে এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি, যদিও আগের বছর এ জাতীয় কিছু ঘটেনি।
রিক্যাপ আইএসসির নির্বাহী পরিচালক মাসাফুমি কুরোকি এ প্রসঙ্গে বলেন, গত দু’বছর ধরে এশিয়াজুড়ে জাহাজে ডাকাতি বা চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে মেরিটাইম পরিবহনগুলোর নিরাপত্তা ও নাবিকদের রক্ষায় আমাদের আরো কিছু করা প্রয়োজন। সতর্ক প্রহরা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর টহল জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার পাশাপাশি অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় নিয়ে এলে এ ধরনের তৎপরতা রোধ করা সম্ভব হবে।