টিকা প্রদানের অপেক্ষমাণ তালিকায় নাবিক ও সম্মুখসারির মেরিটাইম কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে বিশে^র বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিং (আইসিএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর ব্যতিক্রম হলে মহামারির মধ্যে নাবিকরা যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল, আবারো তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
বৈশ্বিক বাজারে টিকা সরবরাহ শুরু হওয়ায় আইসিএস চাইছে সরকারগুলো যেন টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নাবিকদের ভূমিকাকে অগ্রাধিকার দেয়। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি সিরিঞ্জ, পিপিইর মতো চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে সুস্থ ও ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত নাবিকদের ভূমিকাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংস্থাটি। আইসিএসের মহাসচিব গাই প্লাটেন বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী টিকাসহ পিপিই পরিবহনের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের টিকা প্রদান অন্যতম প্রাধিকার হিসেবে দেখা দরকার। সরকারগুলোর উচিত মেরিটাইম খাতের কর্মীদের সম্মুখসারির কর্মী হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরকে টিকা প্রদান করা। তারা যেন কোনোভাবেই অপেক্ষমাণ তালিকার পেছনে না থাকে।’
বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ এরই মধ্যে মেরিটাইম কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আইসিএস বলছে, অধিকাংশ বন্দরসমৃদ্ধ দেশ এখনো নাবিকদের স্বীকৃতিদানে পিছিয়ে আছে। টিকা বিতরণ কার্যক্রমে নাবিকদের গুরুত্ব না দিলে বর্তমানে তারা যে মানবিক সংকটের মুখোমুখি তা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পিলার হচ্ছে মেরিটাইম শিল্প। খাদ্য ও জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে মেরিনাররা অগ্রণী ভূমিকা রাখে। তবে টিকাদান প্রক্রিয়ায় দুটি ডোজ প্রয়োজন হওয়ায় এবং দুটি ডোজের মধ্যবর্তী সময় তিন থেকে চার সপ্তাহ হওয়ায় নাবিক ও সম্মুখসারির মেরিটাইম কর্মীদের জন্য তা বাস্তবায়ন এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।