সংবাদ সংক্ষেপ – ফেব্রুয়ারী

পরিবেশ সুরক্ষায় গঠিত হলো নয়া জোট

বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণের অন্তত ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী শিপিং, ট্রান্সপোর্ট এবং অন্যান্য ভারী শিল্প খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে নতুন জোটের ঘোষণা এল সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে। দ্য মিশন পসিবল পার্টনারশিপ নামের এ যৌথ উদ্যোগের সাথে আছে শীর্ষ অন্তত ৪০০ কোম্পানি, থাকছে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত ক্রেতা, সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শেয়ারহোল্ডার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নেতৃত্বে থাকবে এনার্জি ট্রানজিশন কমিশন, রকি মাউন্টেন ইনস্টিটিউট, দ্য উই মিন বিজনেস কোয়ালিশন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।

দশ মাসে প্রথমবার ৫০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম

দিনে এক মিলিয়ন ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন হ্রাস করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, ওপেক প্লাসভুক্ত বাকি দেশগুলোও কমিয়ে আনবে উৎপাদন, এ ঘোষণার পরপরই ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবার তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। গত বছর তেলের দাম সর্বকালের সর্বনিম্নে আসার প্রেক্ষিতে এ ঘোষণা দিল দেশগুলো। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফেব্রুয়ারি [1] মার্চ নাগাদ অতি ধীরে বাড়ানো হবে উৎপাদন, যার শুরু করবে রাশিয়া ও কাজাখস্তান। মিলিতভাবে দৈনিক ৭৫ হাজার ব্যারেল করে উৎপাদন বাড়াবে দেশ দুটি।

আলট্রাডিপওয়াটার রিগ থেকে রকেট লঞ্চিং প্যাড

অফশোর ড্রিলিং কোম্পানি ভালারিস থেকে ক্রয়কৃত দুইটি আলট্রাডিপওয়াটার রিগকে কিছুটা পরিবর্তন করে রকেট লঞ্চ প্যাডে রূপান্তর করবে বাণিজ্যিক স্পেস ফ্লাইট অপারেটর স্পেসএক্স। সমুদ্রে রকেট লঞ্চ সাইট বসানোর সুবিধা হলো, রকেটের পেলোড ক্যাপাসিটি সর্বোচ্চ পাওয়া যায়, এটি ব্যয়সাশ্রয়ীও বটে। মঙ্গলের দুই চাঁদের সাথে মিলিয়ে স্পেসএক্স রিগ দুটির নাম রেখেছে ডিমোস ও ফোবোস। এর আগেও ১৯৯৯ সালে ব্যবহৃত অফশোর অয়েল রিগকে পরিমার্জন করে রকেট উৎক্ষেপণস্থল হিসেবে ব্যবহার করেছে স্পেস কোম্পানি সি লঞ্চ, ২০১৪ পর্যন্ত যেটি সাফল্যের সাথে অন্তত ৩০টি রকেট পাঠিয়েছে মহাশূন্যে।

প্রথমবারের মতো ইরিডিয়াম

জিএমডিএসএস-এর বাণিজ্যিক ব্যবহার নরওয়ের পতাকাবাহী ট্রলার ট্রাইগভেসনেদুইটি বাণিজ্যিক লার্স থ্রেন এলটি-৩১০০এস ইরিডিয়াম জিএমডিএসএস টার্মিনাল বসানোর মাধ্যমে ইতিহাসের সাক্ষী হলো দেশের প্রাচীন বন্দরনগরী হাউগেসুন্ড। ইরিডিয়াম জিএমডিএসএস সিস্টেমটি অ্যাপ্লায়েড স্যাটেলাইট টেকনোলজি কোম্পানির নির্মিত হলেও পুরো টার্মিনাল নির্মাণ করেছে লার্স থ্রেন এ/এস, ইনস্টল করেছে স্থানীয় মেরিন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ব্রুমল্যান্ড ইলেকট্রনিক। ইরিডিয়ামের অসাধারণ বৈশি^ক নেটওয়ার্কে প্রবেশের পাশাপাশি এ সিস্টেমে থাকছে ভয়েস ও এসএমএস সার্ভিস, ইউনিক ডিস্ট্রেস অ্যালার্ট অ্যান্ড সেফটি ভয়েস ক্যাপাবিলিটি।

পোর্টস বিলে অন্ধ্র প্রদেশের বিরোধিতা

ছোট বন্দরগুলো কেন্দ্র সরকারের নিয়ন্ত্রণেআনতে ঘোষিত ইন্ডিয়ান পোর্টস বিল, ২০২০ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে অন্ধ্র প্রদেশের রাজ্য সরকার। বিল পাস হলে নতুন আইন অনুযায়ী কোন বন্দর অপারেশনাল থাকবে, কোনটি বন্ধ করে দেওয়া হবে, কাকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হবে-সেটা নির্ধারণের ক্ষমতা থাকবে শুধুই কেন্দ্র সরকারের। তার আগে সমুদ্র সংলগ্ন রাজ্যগুলোকে নিয়ে সমন্বয় সভার আহ্বান জানিয়ে দিল্লিকে চিঠি দিয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ। প্রস্তাবিত বিলের কয়েকটি উপধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে গুজরাট মেরিটাইম বোর্ডও।

২০২৫ ব্লু-ইকোনমি স্ট্র্যাটেজি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বৈশি^ক ব্লু-ইকোনমিকে আগামী দশকের মধ্যে তিন ট্রিলিয়নে নিয়ে যেতে ২০২১-২০২৫ ব্লু-ইকোনমি প্ল্যান অনুমোদন দিয়েছে ইউএস ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। পঞ্চশালা এ পরিকল্পনা অনুযায়ী মূলত মেরিন ট্রান্সপোর্ট, ওশান এক্সপ্লোরেশন, সিফুড আহরণ, ট্যুরিজম এবং টেকসই উপকূল-সুনীল অর্থনীতির এ পাঁচ খাতকে অগ্রাধিকার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এসব খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, বিদ্যমান প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার সমন্বিত রোডম্যাপ থাকছে এখানে।

পুরনো এলএনজি প্লান্ট নতুন করে খুলবে মিসর

আট বছর বসে থাকার পর নতুন করে দেমিয়েত্তা লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস প্রডাকশন প্লান্টকে চালু করতে যাচ্ছে মিসর। ইউরোপের দেশগুলোতে এলএনজি রপ্তানি বাড়াতেই এ উদ্যোগ, জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী তারেক আল মোল্লা। এ কারখানা থেকে বছরে ৪.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের এলএনজি সক্ষমতা ১২.৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত করে বিশ্বের শীর্ষ ১০ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশের একটি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করছে মিসর। তেলসমৃদ্ধ অন্যান্য আরব প্রতিবেশী দেশগুলো মিলিতভাবে যেখানে বৈশ্বিক এলএনজির মাত্র ১ শতাংশ সরবরাহ করে, সে তুলনায় মিসর এলএনজি খাতে অনেকটাই এগিয়ে।

 পিছিয়ে গেল দুই কোরিয়ান কোম্পানির একত্রীকরণ

চীন, কাজাখস্তান, সিঙ্গাপুরের অনুমোদন পেলেও ইইউর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আপাতত পিছিয়ে গেছে কোরিয়া শিপবিল্ডিং অ্যান্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃক দায়ু শিপবিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ডিএসএমই) অধিগ্রহণ। ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে দুই কোম্পানি একীভূত হয়ে গেলে চার হেভিওয়েট কোরিয়ান জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান-হুন্দাই হেভি, হুন্দাই সামহো, হুন্দাই মিপো এবং ডিএসএমই একই ছাতার নিচে চলে আসবে।

বছর শেষে ঊর্ধ্বমুখী চীনের অর্থনীতি

করোনা-জর্জরিত বছরে বেশির ভাগ দেশের অর্থনীতি গোঁত্তা খেলেও ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বেশ দ্রুত উঠে এসেছে চীনের অর্থনীতি, যা নতুন বছরেও বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সদ্যবিদায়ী বছরে একমাত্র দেশ হিসেবে প্রবৃদ্ধির সূচক নিচে না নেমে চীনের জিডিপি বেড়েছে ২.৩ শতাংশ। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী বিগত দশকে এ বছরই সর্বোচ্চ গতিতে, অন্তত ৮.৪ শতাংশ হারে বাড়বে জিডিপি। বেইজিংয়ের কঠোর লকডাউন নীতিমালার কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনা নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই সফল চীন। ওদিকে কোভিডের কারণে বিপর্যস্ত দেশগুলোতে পণ্য সরবরাহ বাড়াতে পুরোদমে কাজ করছে তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত। যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবৃদ্ধি সূচকে।

বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে দক্ষিণ কোরিয়া

দেশের বন্দরগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে৬ বিলিয়ন ডলারের ১০ বছর মেয়াদি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সমুদ্র ও মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয়। বন্দরগুলোকে শুধু আমদানি-রপ্তানির স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে পর্যটন, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দ্য থার্ড বেসিক পোর্ট রিডেভেলপমেন্ট প্ল্যান শিরোনামের এ পরিকল্পনার অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ১৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ডংহাই, বুসান নর্থ পিয়ারের মতো পুরনো বা পরিত্যক্ত বন্দরগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে বিনোদন, পর্যটনের উপযোগী করে তুলবে দক্ষিণ কোরিয়া।

বিশ^মানের বন্দর নির্মাণে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ভিয়েতনামের

দেশের পোর্ট সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যানের পরবর্তী ধাপে বন্দরকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে ৬ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করবে ভিয়েতনাম। গত ২০ বছরে দেশটিতে বন্দরের মান ও সংখ্যা দুটিই বৃদ্ধির পর ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাপ সামাল দিতে সুবিশাল এ উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে, জানিয়েছেন ভিয়েতনামের পরিবহন উপমন্ত্রী নগুয়েন নহাত। সমুদ্র ও নদীবন্দর, হোয়ার্ফ, বয়া, ওয়াটার জোন, দেশের জলসীমার উন্নয়নে বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই মাস্টারপ্ল্যানে।

জেএনপিটি এসইজেডে চার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে নিজেদের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে মোট ৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে খসড়া পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ বন্দর জওহরলাল নেহরু পোর্ট ট্রাস্ট। পরিকল্পনা কার্যকর হলে চাকরির মাধ্যমে ৭২ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্তত দেড় লাখ মানুষের জীবিকার উৎস হবে এই এসইজেড। পুরোপুরি জেএনপিটির অর্থায়নে কয়েকটি ধাপে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে এসইজেডে, যার প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি রুপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here