কার্গো চাহিদার তেজিভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে

সমুদ্রগামী কার্গোর চাহিদায় তেজিভাবে বিশ্বের বড় বড় কনটেইনার শিপিং লাইনগুলো নতুন ভেসেলের অর্ডার দিতে শুরু করেছে। এতে করে এশিয়ার জাহাজ নির্মাণ ইয়ার্ডগুলোর সুসময় ফিরে এসেছে। আইএইচএস মার্কিটের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারির এক সপ্তাহেই কনটেইনার জাহাজের অর্ডার ২৩টি বেড়ে ২০১টিতে দাঁড়িয়েছে।

মহামারির আগে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে ৮০ শতাংশ অবদান রাখা শিপিং শিল্পে নতুন কার্যাদেশ মন্দা চলছে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার হানজিন শিপিং দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর থেকে জাহাজের অর্ডার পেতে রীতিমতো সংগ্রাম করে চলছে জাহাজ নির্মাণ শিল্প। বিনিয়োগকারীরাও এ খাতে ঋণ দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে।

তবে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারি পরিস্থিতিকে আমূল বদলে দিয়েছে। অনলাইন চাহিদা বাড়ায় ক্যারিয়ারগুলো প্যাসিফিক সমুদ্রপথে ভাড়া বছরখানেক আগের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশে^র সবচেয়ে বড় কোম্পানি ডেনমার্কের এপি মোলার-মায়েরস্ক-এর প্রাক্কলন বলছে, চলতি বছর বৈশ্বিক কনটেইনারের চাহিদা ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে খাতটির ওপর আর্থিক বাজারের মনোভাব এখন বেশ ইতিবাচক বলে জানাচ্ছেন এসঅ্যান্ডপির মুখ্য বাণিজ্য বিশ্লেষক ক্রিস রজার্স।

লন্ডনভিত্তিক শিপিং অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ক্লার্কসনস রিসার্চের তথ্যানুয়ায়ী, বিদ্যমান বহর সক্ষমতার অংশের ভিত্তিতে নতুন কার্যাদেশ গত ৩০ বছরের সর্বনি¤œ সীমা থেকে ইতিবাচকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত অক্টোবরের পর নতুন কনটেইনার জাহাজের কার্যাদেশ বেড়েছে ১১৫টি। ফলে কনটেইনার ক্যাপাসিটিতে যুক্ত হচ্ছে ২৭ লাখ টিইইউ, যা বিদ্যমান বহরের প্রায় ১২ শতাংশ। চাহিদায় এ তেজিভাবের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণ ইয়ার্ডগুলো ২১টি ভেসেল নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here