১৯১০ সালে সেইন্ট আন্দ্রেতে জন্ম নেওয়া এ ফরাসি নৌবাহিনী কর্মকর্তা ছিলেন একাধারে চৌকস একজন নেভাল অফিসার, সমুদ্র অভিযাত্রী এবং আবিষ্কারক। তবে ইতিহাস তাকে মনে রাখবে তাঁর উদ্ভাবিত স্কুবা ডাইভিং অ্যাপারেটাস অ্যাকুয়া-লাংয়ের জন্য, যা সমুদ্রে ডাইভিংয়ের জন্য এখনো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
১৯৪৩ সালে এসে যৌথভাবে প্রথম সম্পূর্ণ অটোমেটিক কমপ্রেসড এয়ার অ্যাকুয়া লাং নির্মাণে সক্ষম হন কস্তু এবং ফ্রেঞ্চ ইঞ্জিনিয়ার এমিল গ্যাগনান। এরপর ১৯৫৯ সালে সহজে দিক পরিবর্তনযোগ্য ছোট সাবমেরিন ডাইভিং সসার, কয়েক ধরনের আন্ডারওয়াটার ক্যামেরাসহ সমুদ্র তলদেশে অভিযানের উপযোগী এবং ওশেনোগ্রাফারদের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক যন্ত্রপাতি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ওশেনোগ্রাফিক গবেষণা এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের ওপর ফ্রেডেরিক দ্যুমা ও জ্যাক কস্তুর লেখা বই ‘দ্য সাইলেন্ট ওয়ার্ল্ড’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। বেস্ট সেলার এ বইয়ের ওপর ভিত্তি করে তিন বছর পর বিশিষ্ট চলচিত্র নির্মাতা লুই মালের সাথে যৌথভাবে তিনি নির্মাণ করেন ডকুমেন্টারি ফিল্ম দ্য সাইলেন্ট ওয়ার্ল্ড। সে বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবের পাম দ’র এবং সেরা ডকুমেন্টারির অস্কার বাগিয়ে নেয় চলচ্চিত্রটি। ১৯৫৭ সালে মোনাকোর ওশেনোগ্রাফিক মিউজিয়ামের পরিচালক নিযুক্ত হন। সমুদ্রে কন্টিনেন্টাল শেলফে গবেষণার জন্য পরিচালিত কনশেলফ স্যাচুরেশন ডাইভ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে কনশেলফ ওয়ান, টু এবং থ্রি নামে মার্শেইয়ের কাছে ভূমধ্যসাগরের ৩০ ফুট, ১০০ ফুট এবং ৩৩৬ ফুট গভীরে তিনটি আন্ডারসি ল্যাবরেটরি গড়ে তোলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে মার্কিন সরকার তাকে ইউএস প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম সম্মাননায় ভূষিত করে। ১৯৯৭ সালে ৮৭ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।