কোনো বাধা ছাড়াই পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরের বেহাত হয়ে যাওয়া জায়গা দখলে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ১ মার্চ পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র্যাব, পুলিশ ও আনসার নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে এদিন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। অবৈধ দখলকারীদের বাধা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার বোট ক্লাবের পাশে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ৫২ একর জমির প্রায় পুরোটাই লালদিয়ার চর হিসেবে পরিচিত। এই চরেই বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য ওঠানামার টার্মিনাল করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে না পারায় বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও শেষ পর্যন্ত ওই প্রকল্প করা সম্ভব হয়নি। এখন ওই লালদিয়া চরে নির্মিতব্য টার্মিনালের কনটেইনার রাখার স্থান হিসেবে কাজে লাগাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘আমাদের পুরো প্রস্তুতি ছিল অভিযান চালানোর, কিন্তু লালদিয়াবাসী নিজেদের উদ্যোগেই শান্তিপূর্ণভাবে চলে গেছে। আমরা ৫২ একর জমিতে বেড়া দিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী দেয়াল দেওয়া হবে। আর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিশ্চিত করবে আনসার বাহিনী।’
স্থানীয় লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার পর বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙা হয়। আর চারদিকে বেষ্টনী দেওয়া হয়। বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট এই কাজটি তদারকি করেন।
লালদিয়া চরটি বছরের পর বছর চট্টগ্রাম বন্দরের অবৈধ দখলদারদের দখলে ছিল। লালদিয়া চরের পাশে বিশাল একটি এলাকা অবৈধ উচ্ছেদের পর বন্দর থেকে সেটি লিজ দেওয়া হয় ইনকনট্রেড নামের একটি বেসরকারি অফ ডককে। এর পাশেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলী নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতে রিট করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রায়ে অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিলে বিভিন্ন জটিলতায় সেটি পিছিয়ে যায়। ৯ মার্চের মধ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদ শেষ করে উচ্চ আদালতকে জানানোর নির্দেশনাও ছিল।
সেই নির্দেশনার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে লালদিয়ার চরে ভাড়া দিয়ে যারা অর্থনৈতিক কর্মকা- করেছে, সেই স্বার্থান্বেষীদের তালিকা করা হয়েছে। গুটিকয়েক মানুষের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম নষ্ট বরদাশত করা হবে না বলেছিলেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি শুরু করে।