বিশালাকৃতির কনটেইনার জাহাজ এভার গিভেন আটকে বন্ধ হয়ে পড়া সুয়েজ খাল দিয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। তবে গত অর্ধ শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার ফলে বিভিন্ন পক্ষ এখন ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে মাঠে নামছে। সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় আক্রান্ত হয়েছে সবাই- শিপিং লাইন, উৎপাদক কোম্পানি থেকে তেল উৎপাদকরা।
পরিবহন আইনবিষয়ক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান অস্ট্রেলিয়ার নর্টন হোয়াইটের অংশীদার অ্যালেক্সিস কাহালান আইনি ইস্যুটিকে অত্যন্ত জটিল ও বহুবিস্তৃত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘চ্যানেল বন্ধ হওয়ার কারণে আটকে পড়া কার্গোগুলোর কথা যদি আপনি একবার কল্পনা করেন-তেল, শস্য, ভোক্তাপণ্য থেকে পচনশীল পণ্য; তাহলে দেখবেন ক্ষতিপূরণ দাবির পূর্ণাঙ্গ চিত্রটা জানতে আমাদের বেশ সময় লেগে যাবে।’
মিশর জানিয়েছে, সুয়েজ বন্ধ থাকার কারণে তারা ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে। তবে কার কাছ থেকে এ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি সুয়েজ ক্যানেল অথরিটি। ট্রানজিট ফি হারানো, খনন ও উদ্ধার কার্যক্রমে ক্ষতি, উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক ভাড়া ইত্যাদির ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের এ অংক নির্ধারণ করেছে তারা।
এদিকে সুয়েজ বন্ধ থাকার সুযোগে রাশিয়া নর্দান সি রুটের প্রচারে বেশ জোর দিয়েছে। নিরাপদ ও টেকসই সমুদ্রপথ হিসেবে নর্দান রুটকে সুলভে পণ্য পরিবহনে বিশ্বের অন্যতম বিকল্প সমুদ্রপথ হিসেবে তুলে ধরছে তারা। দেশটি আশা করছে, এশিয়া থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনে সুয়েজ খাল এড়িয়ে গেলে দূরত্ব কমবে ৪ হাজার নটিক্যাল মাইল।