সামুদ্রিক প্রাণিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগর মাছ ধরা জাহাজগুলোর কাছে সবসময়ই আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। প্রায় ক্ষেত্রেই এসব জাহাজকে জাতীয় জলসীমার বাইরে গিয়ে মৎস্য আহরণ করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে উদ্বেগজাগানিয়া দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, অতিরিক্ত আহরণের কারণে এখানকার সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর দ্বিতীয়ত, অন্যান্য অঞ্চলের মতো সেখানে মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো সংস্থা বা নজরদারির ব্যবস্থা নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) বহিঃসীমার কাছাকাছি এলাকায় চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও স্পেনের মাছ ধরা জাহাজের আনাগোনা অনেকটা বেড়েছে। গত দুই দশকে দক্ষিণ আমেরিকার উভয় পাশে জাহাজের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে, প্রায়ই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। গত বছর চীনা মাছ ধরা জাহাজের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনে একুয়েডর। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা তাদের জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ ধরার দায়ে তিনটি জাহাজকে আটক করে।
এসব কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিকে মৎস্য শিকার নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। উরুগুয়ে এরই মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে দেশটি এ বিষয়ে ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে।
তবে আর্জেন্টিনা বলেছে, তারা প্রথাগত আঞ্চলিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা সংস্থা (আরএফএমও) চায় না। অবশ্য এর বিকল্প কোনো উদ্যোগ নেয়া হলে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে দেশটি। অন্যদিকে উরুগুয়ে বলেছে, আরএফএমও বিষয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে নতুন করে আর কোনো আলোচনায় বসবে না তারা। তবে দেশটি যদি বিকল্প কোনো সমাধান উপস্থাপন করতে পারে, তবে সেটিকে বিবেচনা করে দেখা হবে।