চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা, বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ এবং রপ্তানিপণ্য বন্দরে পৌঁছে জাহাজীকরণ পুরোদমে স্বাভাবিক রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে প্রথম দফায় লকডাউন এবং ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন শুরুর পরও বন্দর পরিচালন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বন্দর সচল থাকায় বন্দর ব্যবহারকারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এক বছর আগে ২০২০ সালের লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি সচল থাকলেও ব্যবহারকারী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা না থাকায় বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। পণ্য ডেলিভারি না নেওয়ায় বন্দরের ভেতর কনটেইনারজট সামাল দিতে একপর্যায়ে জাহাজ ভেড়ানো পর্যন্ত সীমিত করা হয়েছিল। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, তখনকার পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তবে এবার বন্দর ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ব্যতিক্রম। লকডাউন, রমজান এবং বাজেটের বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগেই বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ; এতে এবার কঠোর লকডাউনে সুফল মিলেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘রমজানের চাপ সামাল দিতে আমরা আগেভাগেই পণ্য সরবরাহ নিতে নির্দেশনা দিয়েছিলাম; এতে বেশ সুফল মিলেছে। বিশেষ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারভর্তি পণ্য বন্দর থেকে দ্রুত ছাড় নিতে আমরা কঠোর ছিলাম। ফলে সেখানেও সুফল মিলেছে। গত বছর এই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার নিয়েও আমরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছিলাম।’
এনামুল করিম আরও বলেন, ‘গত বছরের লকডাউন অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তাতেও সাড়া মিলেছে। লকডাউন শুরুর প্রথম দিন ১৪ এপ্রিল নববর্ষের সরকারি ছুটি থাকার পরও ৩ হাজার ১২২ একক কনটেইনার ছাড় হয়েছে। যে ক’দিন লকডাউন থাকবে, সে সময়ে আমরা দিনে তিন হাজার একক ডেলিভারি করতে পারলেই সন্তুষ্ট।’
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর সচল থাকা মানে দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি সচল থাকা। বন্দর সচল থাকার পেছনে প্রথম যে পদক্ষেপের সুফল মিলেছে, সেটি হচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা সচল রাখা। এর ফলে পণ্য জাহাজ থেকে নামার পর বন্দরে আটকে থাকার সুযোগ ছিল না; আর কারখানার উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘেœ রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নবনির্বাচিত সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সরকারকে বোঝাতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার আমাদের যুক্তি বুঝে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কারখানা সচল রেখেছে। এর ফলে লকডাউনে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট নেই, কনটেইনারজটও নেই; এই বন্দর ব্যবস্থাপনায় আমরা খুব খুশি।’