বৈশ্বিক শিপিং খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তার কারণে বাংকার ফুয়েল হিসেবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা এক সময় একেবারে কমে যাবে। এর পরিবর্তে অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেননির্ভর জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদনের সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছে অলাভজনক জোট সি এলএনজি।
‘দ্য রোল অব এলএনজি ইন দ্য ট্রানজিশন টুওয়ার্ড লো অ্যান্ড জিরো-কার্বন শিপিং’ শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএনজির কার্বনপ্রবলতা বেশি হওয়ায় ২০৫০ সাল নাগাদ বাংকার ফুয়েল হিসেবে এলএনজির ব্যবহার অনেক কমে যাবে। প্রতিবেদনে যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী চলতি দশকে জ্বালানির বাজারে এলএনজির অংশীদারিত্ব কিছুটা বাড়বে। ২০৩০ সাল নাগাদ বাংকার ফুয়েলের মোট বাজারের ১০ শতাংশ জুড়ে থাকবে এলএনজি। আর যদি চলতি দশকে নতুন নির্মিত সব জাহাজেই জ্বালানির হিসেবে এলএনজি ব্যবহার করা হয়, তবে এ হার সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
কিন্তু ২০৩০ সালের পর থেকে বাংকার ফুয়েল হিসেবে এলএনজির চাহিদা কমে যাবে। তবে এই কমে যাওয়ার হার এখন সুনিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এটি নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ জলবায়ুনীতি ও কার্বনমুক্ত জ্বালানির বাজার কতটা গড়ে উঠতে পারে, তার ওপর। বিশ্বব্যাংক বলছে, চল্লিশের দশকের শুরুর দিকেই বাংকার ফুয়েল হিসেবে এলএনজির চাহিদা শেষ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হলেও তা কোনোভাবেই পঞ্চাশের দশকের শুরুর দিক অতিক্রম করবে না।
বিশ্বব্যাংকের কের এই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে সি এলএনজি বলেছে, শিপিং খাত এমন কোনো বিকল্প জ্বালানির জন্য বসে থাকবে না, কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে যার কার্যকারিতা এখনো প্রমাণ হয়নি। বরং এলএনজি সেই তুলনায় অনেকটাই নিরাপদ, প্রমাণিত ও বর্তমানে সহজলভ্য।