ব্যয়বহুল কনটেইনার পরিবহন, খরচ সহসাই কমছে না

কয়েক মাস ধরেই চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলীয় ও ইউরোপীয় বন্দরগুলোয় কনটেইনার পরিবহনে খরচ রেকর্ড সর্বোচ্চের কাছাকাছি। এ ঊর্ধ্বগতি আগামী বছরখানেক অব্যাহত থাকতে পারে। আর এ বাড়তি খরচের বোঝা গ্রাহকদেরই বহন করতে হবে।

সাধারণত বছরের এই সময়টায় স্পট নিলামে কনটেইনার পরিবহনের খরচ কিছুটা কম থাকে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকটা জাহাজের মালিকদের জন্য সুসময় হয়েই এসেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের জন্য আরও সুদিন অপেক্ষা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন শীর্ষ আমদানিকারকরা নতুন যেসব চুক্তি করেছেন, সে অনুযায়ী বলেই দেয়া যায়, কনটেইনার পরিবহনে বাড়তি খরচের গতিতে এখনই ছেদ পড়ছে না।

বিশে^র বেশির ভাগ শীর্ষ রিটেইলার ও ম্যানুফ্যাকচারারই সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বার্ষিক চুক্তি করে যেন সারা বছরই খরচ একই থাকে। আর সেই চুক্তি সাধারণত বছরের এই সময়টাতেই হয়। কারণ এ সময়ে কনটেইনার পরিবহনের খরচ দর-কষাকষি করে কিছুটা কমানো যায়।

কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যপথে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ৪০ ফুট কনটেইনার পরিবহনের চুক্তির হার আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ডলারের মধ্যে রয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় তা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। শিপিং খাতে ডে রেট আর্নিংসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক বিবেচিত হয় ক্লার্কসনস রিসার্চের ক্লার্কসি ইনডেক্স। সর্বশেষ প্রান্তিকে এর দৈনিক গড় ছিল ১৭ হাজার ডলারের বেশি। ২০০৮-০৯  সালের আর্থিক মন্দার পর প্রথম প্রান্তিকে এটিই সর্বোচ্চ গড়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে সূচকটি আরও ঊর্ধ্বমুখী। এরই মধ্যে দৈনিক গড় ২১ হাজার ডলার স্পর্শ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here