ভারতে অক্সিজেনবাহী জাহাজের চার্জ মওকুফের নির্দেশ সরকারের
করোনা মহামারি দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাকাল ভারতে মেডিকেল গ্রেড অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় অক্সিজেনবাহী জাহাজগুলোকে বিভিন্ন চার্জ থেকে ছাড় দেয়ার জন্য বন্দরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।
মেডিকেল গ্রেড অক্সিজেন, অক্সিজেন ট্যাংক, অক্সিজেন বোটল, পোর্টেবল অক্সিজেন জেনারেটর ও অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরবাহী জাহাজগুলো ভেসেল-রিলেটেড চার্জ, স্টোরেজ চার্জ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর থেকে অব্যাহতি পাবে। এছাড়া এসব জাহাজ বার্থিংয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
মায়েরস্ককে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে এমএসসি
আগামী বছরের কোনো একসময়ে সক্ষমতার ভিত্তিতে মায়েরস্ককে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটেইনার লাইনারে পরিণত হতে পারে মেডিটারেনিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি)। ইতালীয়-সুইস শিপিং লাইনটির নতুন কার্যাদেশ, সেকেন্ডহ্যান্ড টনেজ মার্কেটে সক্রিয় সংশ্লিষ্টতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলফালাইনার।
বর্তমানে মায়েরস্ক ও এমএসসির মধ্যে সক্ষমতার ব্যবধান ২ লাখ ২৫ হাজার টিইইউ। মায়েরস্কের বহরে রয়েছে ৭০৯টি জাহাজ। অন্যদিকে এমএসসির বহরে থাকা জাহাজের সংখ্যা ৫৮৮টি।
ব্যালাস্ট ওয়াটার রেকর্ড পদ্ধতির আধুনিকায়ন চায় বিমকো
সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর ক্রুজ শিপ, বড় ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারিয়ারগুলো থেকে ফেলে দেয়া ব্যালাস্ট ওয়াটারের প্রভাব অপরিসীম। এ কারণে ব্যালাস্ট ওয়াটারের রেকর্ড রাখা প্রতিটি জাহাজের জন্য বাধ্যতামূলক।
ব্যালাস্ট ওয়াটার রেকর্ড বুকে (বিডব্লিউআরবি) সংরক্ষিত কোডের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রশাসন, বন্দর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট এক্সটার্নাল পার্টিগুলো প্রায়ই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যেই বিডব্লিউআরবি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) বিদ্যমান নির্দেশনা হালনাগাদ করার আর্জি জানিয়েছে বাল্টিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কাউন্সিল (বিমকো)।
কার্বনমুক্ত হতে তিন বছরে ১৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে মিৎসুই
প্রথম জাপানি শীর্ষ শিপিং কোম্পানি হিসেবে ২০৫০ সাল নাগাদ নিজেদের বহর সম্পূর্ণরূপে কার্বন নিঃসরণমুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মিৎসুই ওএসকে লাইনস। এ লক্ষ্যে আগামী তিন বছরে ১৮০ কোটি ডলারের বড়সড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছে তারা।
কার্বন নিঃসরণ কমাতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিন বছরে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে বিষয়ে ২০২০ সালে একটি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে মিৎসুই। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার উদ্যোগের কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বৈরুত বন্দরের জন্য ৬০ কোটি ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সিএমএ সিজিএমের
গত আগস্টে রাসায়নিক বিস্ফোরণে ল-ভ- লেবাননের পোর্ট অব বৈরুতে আবার জমজমাট ভাব ফিরিয়ে আনতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিএমএ সিজিএম।
বিশে^র চতুর্থ বৃহত্তম কনটেইনার পরিবহন ও শিপিং কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ফরাসি-লেবানিজ বিলিয়নেয়ার জ্যাক সাদে। তার জন্মস্থান লেবাননের বৈরুত। তাই বৈরুত বন্দরের প্রতি সাদে পরিবারের দুর্বলতা রয়েছে। ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই বন্দরের পুনর্গঠনে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছে সিএমএ সিজিএম। এবার তারা পুনর্গঠনের পাশাপাশি সম্প্রসারণের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা লেবানিজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। এ কাজে মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪০-৬০ কোটি ডলার।
১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চায় মিশর
সুয়েজ খালে আটকে যাওয়া জাহাজ এভার গিভেনকে সরানো গেছে ঠিকই, তবে জাহাজটি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি এখনো। প্রায় ১০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ না দিলে জাহাজটিকে মিশর ছেড়ে বেরোতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে সুয়েজ কর্তৃপক্ষ।
জাহাজটিকে নড়াতে কাজ করা ৮০০ শ্রমিকের পারিশ্রমিক, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির খরচ ও ড্রেজিংয়ের কারণে খালের যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই অর্থ দাবি করা হবে। তাছাড়া এভার গিভেনের কারণে সুয়েজের দু’পাশে যে ৪০০ জাহাজ আটকা পড়েছিল, তাদের অর্থও ফিরিয়ে দেয়া হবে।
করোনায় ভারতের জাহাজ ভাঙা শিল্পে স্থবিরতা
করোনা মহামারির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের জাহাজ ভাঙা শিল্প প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশটিতে অক্সিজেনের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে গ্যাস টর্চে ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেনকে এখন করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগানো হচ্ছে।
ভারতের সবচেয়ে বড় শিপব্রেকিং ইয়ার্ড আলাংয়ে জাহাজ কাটার কাজে অক্সিজেন ফুয়েল টর্চ ব্যবহার করা হয়। তবে সব অক্সিজেন এখন চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করায় আলাংয়ের ৯০ শতাংশ জাহাজ ভাঙা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
জলে ভাসতে যাচ্ছে বিশে^র প্রথম হাইড্রোজেনচালিত কার্গো জাহাজ
শিগগিরই জলে ভাসতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত কার্গো জাহাজ। প্যারিসের সিন নদীর জলে ভাসানো হবে একটি ইউরোপীয় ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত জাহাজটি।
১৬৪ ফুট দীর্ঘ প্যালেট শাটল বার্জটি ইলেকট্রোলাইট থেকে উৎপাদিত সংকুচিত হাইড্রোজেন দ্বারা চালিত হবে। ইউরোপের শিপিং খাত-সংশ্লিষ্ট ১২টি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়াম গৃহীত প্রকল্পটির অধীনে ফ্রান্স ও নরওয়ের জন্য হাইড্রোজেনচালিত জাহাজ নির্মাণ করা হবে। ২০১৮ সালে এই প্রকল্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি তহবিল থেকে ৫০ লাখ ইউরো সহায়তা পেয়েছে।
একযোগে কাজ করবে কোরিয়া রেজিস্টার ও হুন্দাই
দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণশিল্পের প্রতিযোগিতাসক্ষমতা আরও জোরালো করতে একযোগে কাজ করবে কোরিয়া রেজিস্টার অব শিপিং ও হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ গ্রুপ। এ বিষয়ে সম্প্রতি তারা একটি সমন্বিত কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য পরিবেশগত নীতিকাঠামোর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা।
কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোরিয়ার বৃহত্তম জাহাজনির্মাতা ও ক্লাস সোসাইটি তাদের প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ বিনিময় করবে এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
রেডিওঅ্যাক্টিভ পণ্যবাহী জাহাজকে বহিষ্কার করেছে শ্রীলংকা
সম্প্রতি একটি জাহাজ শ্রীলংকার হাম্বানটোটা বন্দরে নোঙর করে, যেটি চীনে রেডিওঅ্যাক্টিভ কার্গো নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পণ্যের বিবরণের ঘোষণা না দেয়ায় শ্রীলংকান কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাম্বানটোটা বন্দরটি শ্রীলংকায় অবস্থিত হলেও এটি পরিচালনা করছে চীন। সেখানেই নোঙর করে বিবিসি নেপলস, যেটি চীনে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লুরাইড বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শ্রীলংকার পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল জাহাজটিকে বন্দর ত্যাগের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়।
সিঙ্গাপুরের প্রথম মেরিটাইম ড্রোন এস্টেট উদ্বোধন
সিঙ্গাপুরের প্রথম মেরিটাইম ড্রোন এস্টেট (এমডিই) গত ২০ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়েছে। মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি অব সিঙ্গাপুর আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করে।
মেরিনা সাউথ পিয়ারের নিকটবর্তী এমডিই বিভিন্ন ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ করে দেবে। এসব ড্রোন প্রযুক্তি শোর-টু-শিপ ডেলিভারি ও রিমোট শিপ ইনস্পেকশনের মতো মেরিটাইম অ্যাপলিকেশনে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাত-সংশ্লিষ্ট ১১টি প্রতিষ্ঠান তাদের ড্রোন প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেম, ম্যানুফ্যাকচারিং ও কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রদর্শন করেছে।
ডিএনভির সাইলেন্ট-ই নোটেশন পেয়েছে ওনেক্স পিস
পানির নিচে শব্দদূষণ কমানো অথবা পরিহারের সক্ষমতা থাকার নোটেশন পেয়েছে ওনেক্স পিস নামের একটি আফরাম্যাক্স ক্লাস অয়েল ট্যাংকার। পানামায় নিবন্ধিত জাহাজটির ক্লাস রেজিস্ট্রেশনে এই নোটেশন দিয়েছে ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি ডিএনভি।
জাহাজটির নির্মাতা হুন্দাই সামহো হেভি ইন্ডাস্ট্রি। সম্প্রতি এটি মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশে^র প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ হিসেবে ডিএনভির সাইলেন্ট-ই নোটেশন পেয়েছে জাহাজটি। ওনেক্স পিসের এই অর্জন অন্যান্য জাহাজের মালিক ও জাহাজনির্মাতাদের পরিবেশবান্ধব জাহাজ তৈরিতে আরও বেশি উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।