সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কলেবর বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে পণ্য পরিবহনে সমুদ্রপথের চাহিদা। এ কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো এখন দৈত্যাকার জাহাজ তৈরির দিকে নজর দিয়েছে, যেগুলো একের পর এক কনটেইনার সাজিয়ে বিশাল সমুদ্র পাড়ি দেয়। উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়ার সময় মাঝেমধ্যেই এই পাহাড় থেকে কিছু কনটেইনার পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। উদ্বেগের বিষয় হলো, সাগরে কনটেইনার হারানোর হার সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর কোটি কোটি ডলারের পণ্যবাহী এসব কনটেইনার সাগরে জলাঞ্জলি হওয়ার কারণে কেবল যে গ্রাহকরাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা নয়। সমুদ্র নিরাপত্তার বিষয়টিও হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড সংখ্যক কনটেইনার সাগরে হারিয়ে গেছে। গত বছর এ সংখ্যাটি ছিল ৩ হাজার। আর এ বছর এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি কনটেইনার জাহাজ থেকে পড়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাপকেই দায়ী করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিপিং খাতে এখন পণ্যের সুরক্ষার চেয়ে দ্রুততর সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ কারণে জাহাজগুলোয় পাহাড়সম কনটেইনার বোঝাই করা হয়। এসব জাহাজ উত্তাল সাগরে পড়লে কনটেইনার পড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
পণ্যবোঝাই কনটেইনার সাগরে হারিয়ে যাওয়ার কারণে অ্যামাজন, টেসলার মতো মার্কিন রিটেইলার ও ম্যানুফ্যাকচারারদের সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হচ্ছে। গত নভেম্বরে ওয়ান অ্যাপাস জাহাজ উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়লে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি কনটেইনার সাগরে পড়ে যায়। জানুয়ারিতে মায়েরস্ক এসেন চীনের শিয়ামেন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস যাওয়ার পথে প্রায় ৭৫০টি কনটেইনার হারিয়েছে। মাসখানেক পর গভীর সাগরে ২৬০টি কনটেইনার হারিয়েছে একই শিপিং লাইনের আরেকটি জাহাজ।