মধ্যযুগে ওমান সাম্রাজ্যের অন্তর্গত, বর্তমান আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ এলাকায় ১৪৩২ সালে জন্ম নেওয়া বিখ্যাত এই আরব নেভিগেটর ও কার্টোগ্রাফারকে অসীম সাহসের জন্য ‘দ্য লায়ন অব দ্য সি’ নামেও ডাকা হয়। নাবিক পরিবারে জন্ম নেওয়ার ফলে ১৭ বছর বয়সেই জাহাজ পরিচালনায় বেশ দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি।
মধ্যযুগে নৌ-অভিযান বিদ্যার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তাঁর লেখা ‘কিতাব আল ফাওয়াইদ ফি উসুল ইলম আল-বাহর ওয়া আল কাওয়াইদ’ (দ্য বুক অব দ্য বেনেফিটস অব দ্য প্রিন্সিপালস অ্যান্ড ফাউন্ডেশনস অব সিম্যানশিপ)। গাইডবুক হিসেবে এ বই হাতে দীর্ঘ অভিযানে বেরিয়ে পড়ে পর্তুগিজ, স্প্যানিশ, তুর্কি, ফরাসি, ইংরেজ বেনিয়ারা। দখল করতে থাকে নব আবিষ্কৃত ভূখ-, গড়ে ওঠে উপনিবেশ। মূলত এনসাইক্লোপিডিয়া আকারে লিখিত এ বইয়ে নেভিগেশনের ইতিহাস, প্রাথমিক ধারণা, সেলেস্টিয়াল নেভিগেশনভিত্তিক ল্যাটিচিউড-লঙ্গিচিউড নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি, লুনার ম্যানসন, লোক্সোড্রোম, কোস্টাল এবং ওপেন সি ফেয়ারিংয়ের পার্থক্য, পূর্ব আফ্রিকা থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত প্রতিটি বন্দরের অবস্থানসহ ম্যাপ, মৌসুমি এবং ঋতুভিত্তিক বায়ু, ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম ও ঝড়ের পূর্বাভাস প্রাপ্তিসহ একজন পেশাদার মেরিনারের জন্য, বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে নৌপরিচালনার অতি প্রয়োজনীয় সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নৌ-অভিযানের মৌলিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন বলে তাকে মুয়াল্লিম বা শিক্ষক (টিচার অব নেভিগেশন) হিসেবেও অভিহিত করেন আধুনিক নৌ-ইতিহাসবিদরা। সেকালে প্রচলিত পদ্ধতি, সূর্যের সাহায্যে দিক খোঁজার বদলে তাঁর সকল নেভিগেশনাল ক্যালকুলেশনের ভিত্তি ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান। তাঁর নিজ হাতে লেখা বইয়ের পা-ুলিপি সংরক্ষিত আছে ফ্রান্সের জাতীয় জাদুঘরে। আনুমানিক ১৫০০ সালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।