লিডলাইন

নেভিগেশন ইতিহাসের প্রাথমিক যুগে আবিষ্কৃত কিন্তু এখনো ব্যবহার্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র হলো লিডলাইন। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতক থেকে পানির গভীরতা পরিমাপ এবং সমুদ্রতলের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে এটি ব্যবহার করে আসছেন নাবিকেরা। যন্ত্রটির গঠন খুবই সরল, অথচ ফলাফল সে তুলনায় অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হওয়ায় গত দুই হাজার বছরেও এর নকশায় খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য পরপর দাগ কাটা বা গিঁট দেওয়া শক্তপোক্ত একটি দড়ির শেষপ্রান্তে বাঁধা থাকে লেড বা সিসার তৈরি ভারী বল। গোলকের নিচের অংশ সমতল বা ভেতরের দিকে অবতল থাকে। এ অংশটিকে প্রাণিজ চর্বি বা গ্রিজের মতো আঠালো কোনো পদার্থ দিয়ে পূর্ণ করা হয়। যাতে পানির তলদেশে বলটি স্থির হয়ে বসে তলদেশের মাটির নমুনা তুলে আনতে পারে। এ পদ্ধতিকে বলা হয় ‘আর্মিং দ্য লিড’। তলায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় দড়ির দৈর্ঘ্য মাপা হয়, যাকে বলে সাউন্ডিং। আগের দিনে বিজ্ঞানী-গবেষকরা নটিক্যাল চার্ট বানাতে যে সাউন্ডিং ডেটা সংগ্রহ করতেন, তা এ রকম হাজার হাজার লিডলাইনের সাহায্যেই পেতেন। 

ঐতিহ্যগতভাবে দড়িতে ২,৩,৫,৭,১০,১৫,২০ এবং ২৫ ফ্যাদমে সাদা বা লালা চামড়ার টুকরো বা ফালি গিঁট দিয়ে প্রস্তুত করা হতো লিডলাইনের লাইন অংশটিকে। ওপর থেকে যে মার্কিং পানির পৃষ্ঠতলের খুব কাছাকাছি থাকে, ধরা যাক ৫, তখন তাকে ‘বাই দ্য মার্ক ৫’ বলা হয়। কিন্তু সেটা যদি হয় ৫ ও ৭ ফ্যাদমের মাঝামাঝি কোনো অংশ, তখন তাকে বলা হয় ‘বাই দ্য ডিপ ৬’। আজকের দিনেও লিডলাইন সমান গুরুত্বপূর্ণ-ব্যাটারি লাগে না, রিক্যালিব্রেট করতে হয় না, ডেটা লিক হওয়ার ভয় নেই এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here