উষ্ণায়ন প্রতিরোধের বৈশ্বিক উদ্যোগকে সফল করতে দেশে দেশে এখন নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আর এই শক্তির বড় একটি উৎস হলো বায়ুবিদ্যুৎ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সারা বিশ্ব প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের সংখ্যা ক্রমে বেড়েছে। সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এসব প্রকল্পে বড় আকারের টার্বাইন ও ফাউন্ডেশন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সমস্যা হলো, এগুলো প্রকল্পের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া ও স্থাপনের কাজটি সহজ নয়। বর্তমানে এ কাজে যেসব জাহাজ ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো বৃহদাকার টার্বাইন ও ফাউন্ডেশন স্থাপনে সক্ষম নয়। ফলে ২০২৫ সাল নাগাদ এসব জাহাজের বেশির ভাগই অকার্যকর হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য আগামী এক দশকে ১০০টির বেশি নতুন অফশোর উইন্ড ভেসেলের প্রয়োজন পড়বে। ওয়ার্ল্ড এনার্জি রিপোর্টসের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ওয়ার্ল্ড এনার্জি রিপোর্টসের ডিরেক্টর অব রিসার্চ ফিলিপ লুইস বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমানের বহর দিয়ে বড় প্রকল্পের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। এজন্য নতুন ইনস্টলেশন ভেসেল বানাতে হবে অথবা বিদ্যমান জাহাজগুলোকে সংস্কার করে আপডেট করতে হবে। আর এতে প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান, জাহাজ নির্মাতা, কনভার্শন ইয়ার্ড, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারীদের জন্য ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের বিশাল সম্ভাবনাময় বাজার তৈরি হবে।’
লুইস জানান, ২০২০ সাল শেষে অফশোর উইন্ড প্রকল্পে ইনস্টলড ক্যাপাসিটি ছিল ৩২ গিগাওয়াট। ২০৩০ সাল নাগাদ তা ২৩৫ গিগাওয়াটে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বটম-ফিক্সড ইনস্টলড ক্যাপাসিটি দাঁড়াতে পারে ২২৬ গিগাওয়াট।