বিশ্বজুড়ে ভোগ্যপণ্যের বড় একটি অংশ গ্রাহকের হাতে পৌঁছায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যের মাধ্যমে। ভোক্তাপর্যায়ে এসব পণ্যের মূল্য নির্ধারণে পরিবহন ব্যয় বড় ভূমিকা রাখে। অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় জাহাজে কনটেইনারবদ্ধ করে পণ্য পরিবহনে খরচ তুলনামূলক কম। এ কারণে আমদানি-রপ্তানিকারকেরা কনটেইনারে পণ্য পরিবহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। বিশ্ববাণিজ্যে এর অবদানও তাই অনেক বেশি।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি পাল্টেছে। ফ্রেইট রেট বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, ভোগ্যপণ্যের মূল্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আসবাব থেকে শুরু করে কফি- বিভিন্ন পণ্যের ভোক্তারা এরই মধ্যে এর আঁচ পেতে শুরু করেছেন। সি ইন্টেলিজেন্সের সিইও অ্যালান মার্ফি জানিয়েছেন, ট্রান্সপ্যাসিফিক রুটে পরিবহনকৃত সংযোজিত আসবাবের মোট খুচরা মূল্যের ৬২ শতাংশ নির্ধারণ করে দিচ্ছে এর পরিবহন খরচ। বড় আকারের অন্যান্য অ্যাপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রেও এ হার যথেষ্টই বেশি। এ ধরনের পণ্যের খুচরা মূল্যের প্রায় ৪১ শতাংশজুড়ে রয়েছে পরিবহন খরচ। কনটেইনারে পরিবহন খরচ আরও বাড়তে থাকলে এসব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হবে। কারণ এগুলো বিক্রি করে রিটেইলারদের যে মার্জিন থাকে, তা দিয়ে এই বাড়তি পরিবহন ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব না। এ কারণে বাড়তি ফ্রেইট রেটের বোঝা গিয়ে পড়বে ভোক্তাদের ঘাড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে তাদের পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর চিন্তা করছেন। বিকল্প আর কী উপায়ে পরিবহন করলে খরচ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে, তা খতিয়ে দেখছেন তারা। এরই মধ্যে কিছু বিকল্প সামনে উঠে এসেছে। যেমন বলা যায় পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সরাসরি পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সার্ভিস, যেখানে তুলনামূলক ছোট জাহাজ কিংবা চাপ কম রয়েছে এমন কোনো সেকেন্ডারি বন্দর ব্যবহার করা যেতে পারে।