বহুল কাক্সিক্ষত চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার সমাধান হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ৮০৩ একর খাসজমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ২২ জুন ভূমি মন্ত্রণালয় অধিগ্রহণ-২ এর উপসচিব মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে ভূসম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনে ওই ৮০৩ একর জায়গা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সচিবকে হস্তান্তর করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের জটিলতার অবসান ঘটল।
চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব তহবিল থেকে বে-টার্মিনালের জন্য ৬৮ একর জমি কিনেছিল। কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ৮০৩ একর খাসজমি অধিগ্রহণের জন্য আটকে ছিল। ব্যক্তিমালিকানাধীন দশমিক ৭৯ একরসহ মোট ৮০৩ দশমিক ১৭ একর ভূমির অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগোল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণের ৭ ধারায় অবকাঠামোর থাকা সাপেক্ষে ভূমির মূল্যমান নির্ধারণ করবে। গণপূর্তসহ বিভিন্ন সংস্থার সরেজমিন সার্ভে শেষ নির্ধারণ করা মূল্য পরিশোধের জন্য বন্দরের কাছে ৮ ধারা নোটিশ জারি করবে। এর ১২০ দিনের মধ্যে নামমাত্র মূল্যে পাওয়া অর্থ বন্দর পরিশোধ করবে। এছাড়া টাকা পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকেরা তাঁদের পাওনা বুঝে নিয়ে জায়গা ছাড়বেন। বন্দরকে সেই জায়গা হস্তান্তর করবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এরপরেই শুরু হবে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩টি টার্মিনালের একটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এককভাবে এবং অপর দুটি বিল্ড-অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওটি) ভিত্তিতে নির্মিত হবে। যা চালু হবে ২০২৬ সালের মধ্যে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ বন্দর কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই হাতে নিয়েছে। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮ একর জায়গা কিনে নিয়েছিল। এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বে-টার্মিনাল প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।’