বাংলাদেশ সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য পূরণে সহযোগী হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ সেবা পেতে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডে গতি, দক্ষতা, দায়বদ্ধতা এবং সুশাসন ও শুদ্ধাচার বাড়াতে বদ্ধপরিকর। আর এর জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত কর্মপরিকল্পনা। এই প্রেক্ষিতেই সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির (জিপিএমএস) আওতায় গৃহীত হয়েছে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) কার্যক্রম। নিঃসন্দেহে এটি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক সংস্কার। এই চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিক ও যুগোপযোগী হওয়ার চলমান প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রচলন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা বাড়ানোও সম্ভব হচ্ছে।

সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা

১৯৮০ দশকের শুরুতে ‘নিউ পাবলিক ম্যানেজমেন্ট’ ধারণা থেকে বিশ্বে সরকারি খাতে কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনার শুরু হয়। এ ব্যবস্থাপনার মূলে ছিল সরকারি দপ্তরসমূহের দক্ষতা, কার্যকারিতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার। বিশ^জুড়ে সরকারসমূহের প্রতিশ্রুতি আর জনমুখী বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সরকারের কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গত দুই দশক ধরে বিশে^র বিভিন্ন দেশ কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। কর্মসম্পাদন ব্যবস্থা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে কর্মচারীদের সক্ষম করে তোলে, বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে এবং পরবর্তীতে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর্মচারীদের প্রণোদনা প্রদান করে। কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনার আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান তার সম্পদ. কর্মচারী এবং কার্যপদ্ধতিকে কৌশলগত উদ্দেশ্য এবং বিভিন্ন অগ্রাধিকারের সাথে কার্যকরভাবে যুক্ত করে। এটি সরকারের কার্যক্রমের ধারাবাহিক সংস্কার, উন্নয়ন এবং তা পরিমাপের একটি গতিশীল পদ্ধতি। সরকারি দপ্তরকে আরও বেশি দক্ষ ও কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন নামে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা চালু করেছে।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন বা এসিআর পদ্ধতিতে সরকারি কর্মচারীদের কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা শুরু হয়। এতে কর্মচারীদের নির্দিষ্ট কিছু সূচকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা শুরু হয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট এবং এডিপিতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে। এরপর কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য কর্মসম্পাদন সূচক (কেপিআই) নির্ধারণ করা হয়। এটি সকল পর্যায়ের সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োগযোগ্য না হওয়ায় সমন্বিত কার্যসম্পাদন ব্যবস্থা প্রচলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয় জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটির প্রতিবেদনে। ২০১২ সালে শুদ্ধাচার কৌশলেও কর্মসম্পাদনভিত্তিক নিরীক্ষা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে ২০১৪ সালের জুন ও নভেম্বরে সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে তিনটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করা সকলেই কর্মসম্পাদন ব্যবস্থা প্রচলনের সুপারিশ করেন। এর আগে একই বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে এর আওতাধীন সংস্থাসমূহ পারফরম্যান্স কনট্রাক্টিং এর আওতায় কেপিআই ভিত্তিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যা সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে কার্যসম্পাদন চুক্তি প্রবর্তনের পথকে সুগম করে। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আওতায় বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বা অ্যানুয়াল পারফরম্যান্স এগ্রিমেন্ট (এপিএ) চালু করে সরকার। প্রথম পর্যায়ে ২০১৫ সালের মার্চে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৪৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এপিএ স্বাক্ষর করে।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি

একটি দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কোনো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেসব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, সে বিষয়ে সরকারের সাথে প্রতিষ্ঠানের চুক্তিই হলো বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বা এপিএ। প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট করা এসব লক্ষ্য এবং তার নির্দেশকসমূহ একটি ছকের মাধ্যমে এপিএতে লিখিত আকারে বর্ণনা করা হয়। সুশাসন এবং সংস্কারমূলক কার্যক্রমসমূহ যেমন; জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা, সেবাপ্রদানের প্রতিশ্রুতি, ই-গভর্ন্যান্স, উদ্ভাবন ও তথ্য অধিকার সমন্বিতভাবে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির অংশ।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি দুটি অংশে বিভক্ত। একটি প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলগত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, অপরটি সুশাসন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন। সুশাসন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত।

মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে সচিব প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সাথে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। আর বিভাগ বা সংস্থার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে বিভাগ বা সংস্থার প্রধান এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মধ্যে বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অর্থবছর শেষে চুক্তি অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তা পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়। এজন্য সরকার নির্ধারিত মানদ- রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের অভিলক্ষ্য ও বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি

ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদা পূরণে চট্টগ্রাম বন্দরকে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাড়াতে হচ্ছে সক্ষমতা। জনবলের সর্বোত্তম ব্যবহার আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হচ্ছে। নিত্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এই পথকে সুগম করতে সরকারের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দক্ষতা আর প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের একাগ্রতা চট্টগ্রাম বন্দরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের রূপকল্প-২০৪১ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বন্দর বাস্তবায়নের রূপকল্প নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রূপকল্পের লক্ষ্য অর্জনে নির্ধারণ করেছে অভিলক্ষ্য। এগুলো হলো; উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বন্দরের আধুনিকায়ন, কর্ণফুলী চ্যানেলের নাব্যতা সংরক্ষণ, দক্ষতার সাথে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জাহাজের গড় অবস্থানকাল হ্রাস এবং জেটি ও ইয়ার্ড সুবিধাদি সম্প্রসারণসহ নিরাপদ ও দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় আমদানি-রপ্তানিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন। এসব অভিলক্ষ্য অর্জনে যেসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কাজ করবে, সেগুলোও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব বন্দর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর। পৃথকভাবে পাঁচটি পরস্পর সম্পর্কিত ক্ষেত্র হলো; টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ও নিরাপত্তা প্রদান, কর্মসম্পাদনে গতিশীলতা আনয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং আর্থিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। এছাড়া সুশাসন ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম গ্রহণে জোর দেওয়া হয়েছে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে।

প্রতিষ্ঠানের রূপকল্প ও অভিলক্ষ্যের সাথে মিল রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর তার কৌশলগত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে। যেসব বিষয়কে কর্তৃপক্ষ আমলে নিয়ে অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো; রূপকল্প ২০৪১, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। এসব বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েই বন্দরের এপিএ নির্ধারিত হয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ মনিটরিং ও কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টায় সর্বশেষ অর্থবছরে (২০২০-২০২১) এপিএ-এর ৭টি পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এগুলো হলো; সংরক্ষণ ড্রেজিং, কার্গো হ্যান্ডলিং, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, ৩০ হাজার বর্গমিটার নতুন কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ, সার্ভিস জেটি নির্মাণ, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প।

কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে মাইলফলক

করোনা অতিমারির কারণে বিশ^ব্যাপী বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে। এর প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতেও। গত  বছরের মার্চে শুরু হওয়া প্রথম ধাপের লকডাউনের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ নি¤œমুখী হয়। জুন-জুলাই থেকে শিল্প-কারখানা আবার পুরোদমে চালু হলে বাড়তে থাকে আমদানি-রপ্তানি। দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘœ রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ করোনা পরিস্থিতিতেও ২৪/৭ অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফলে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০২০-২০২১) চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের তিনটি সূচকেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা ২৮ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডলিং করেছে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার কনটেইনার। অন্যদিকে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ৯ কোটি মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে হ্যান্ডলিং করেছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ মেট্রিক টন কার্গো। জাহাজ হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে না থাকলেও এক্ষেত্রেও গত অর্থবছরের পরিসংখ্যানকে টপকে ৪ হাজার ৬২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। গত অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৬৪টি।

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প

বতর্মান সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩ দশমিক ২০ অনুচ্ছেদে মাতারবাড়ীতে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ১০টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি (ফাস্ট ট্র্যাক) মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে গত অর্থবছরের ১০ জুনের মধ্যে পরামর্শক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও একই অর্থবছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের ৮ মাস আগেই চুক্তি স্বাক্ষর সম্পাদন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়াতে পতেঙ্গায় নির্মাণ করা হচ্ছে কনটেইনার টার্মিনাল। বন্দরের নিজস্ব তহবিলের প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনটি কনটেইনার ও একটি তেল খালাসের জেটি তৈরি হচ্ছে প্রকল্প এলাকায়। করোনা অতিমারির কারণে নির্মাণ কাজে ব্যাঘাত ঘটলেও বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। এর আগের দুই অর্থবছরে ১৫ ও ২৮ শতাংশসহ সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রকল্পের মোট ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়েছে সার্ভিস জেটির নির্মাণকাজ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব জাহাজসমূহ বার্থিংয়ের জন্য বন্দরের ১ নং জেটির উজানে ২২০ মিটার দীর্ঘ সার্ভিস জেটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। গত অর্থবছরে এই প্রকল্পের অবশিষ্ট ৩৭ শতাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত কাজের পুরোটাই বাস্তবায়ন হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বন্দরের নিজস্ব নৌযান যেমন টাগবোট, স্পিড বোট, বার্জ, ড্রেজার, পাইলট বোট ও অ্যাম্বুলেন্স বোট বার্থিংয়ের জন্য কোনো নির্ধারিত জেটি ছিল না। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বন্দরের নিজস্ব নৌযান বার্থিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ জেটিতে বার্থিংকৃত জাহাজসমূহের মেরামত ও পানি সরবরাহের সুবিধা রয়েছে। প্রকল্পের সুফল হিসেবে বন্দরের নিজস্ব জাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও অনেকাংশে কমে আসবে। প্রকল্পের আওতায় ২২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২০ মিটার প্রস্থের জেটি, ১৯ মিটার দৈর্ঘ্যরে কানেক্টিং ব্রিজ, তিন তলা অফিস ভবন, ১ হাজার বর্গমিটার শেড, ২ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংকসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাদি নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি আসবে। কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সার্ভিস জেটিটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮২ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

সংরক্ষণ ড্রেজিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে…

চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠায় জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে নাব্যতা রক্ষায় প্রতিনিয়ত সংরক্ষণ ড্রেজিং করতে হয় কর্তৃপক্ষকে। উজান থেকে আসা পলিতে যাতে কর্ণফুলী চ্যানেলের নাব্যসংকট দেখা না দেয়, সেটি নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংরক্ষণ ড্রেজিং পরিচালনা করে। এতে সারা বছর নির্বিঘেন্নে  জেটিতে জাহাজ চলাচল করতে পারে। গত অর্থবছরের কর্মসম্পাদন চুক্তিতে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙরের ২০ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে কর্তৃপক্ষ ২২ কিলোমিটার ড্রেজিং করতে সক্ষম হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ কিলোমিটার বেশি। আর যদি ঘনমিটার হিসাব করা হয় তাহলে ১১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ড্রেজিং করা হয়েছে ১২ লাখ ঘনমিটার।

নতুন ইয়ার্ড নির্মাণ

ক্রমবর্ধমান হারে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির সাথে পণ্য ও কনটেইনার সংরক্ষণে চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্প্রসারণ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চাহিদার সাথে তাল রেখে কর্তৃপক্ষ ইয়ার্ড সম্প্রসারণ করছে পরিকল্পনা অনুযায়ী। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে ৩০ হাজার বর্গমিটার নতুন ইয়ার্ড যোগ হয়েছে বন্দর। যা এপিএর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে।

বন্দরের সুশাসন ও সংস্কারমূলক কর্মসম্পাদন

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি অনুযায়ী বন্দর তার সুশাসন ও সংস্কারমূলক কর্মসম্পাদনে বদ্ধপরিকর। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫টি ক্ষেত্রে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এগুলো হলো শুদ্ধাচার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন, আইন অনুযায়ী তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন, অভিযোগ প্রতিকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রতিশ্রুত সেবাপ্রদানের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

শুদ্ধাচার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

শুদ্ধাচার বলতে সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়। একটি সমাজের কালোতীর্ণ মানদ-, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যকেও শুদ্ধাচার বলা যায়। ব্যক্তিপর্যায়ে এর অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা। ব্যক্তির সমষ্টিতে প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়। তাদের সম্মিলিত লক্ষ্যই প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যে প্রতিফলিত হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের তিনটি ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এগুলো হলো প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট এবং শুদ্ধাচার-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম। চট্টগ্রাম বন্দরও একইভাবে শুদ্ধাচার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধি এবং অনৈতিক মনোভাব দূর করতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মশালার আয়োজন করে নিয়মিত। দুর্নীতিবিষয়ক পাঠ, শুদ্ধাচার, সুশাসন ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা বিষয়ে অবহিত করা হয় এসব প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায়। গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ৮৫টি কোর্সের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব কোর্সের মধ্যে ছিল বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উপস্থাপনা, পরিচালনা ও শৃঙ্খলা, নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ই-নথি বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্স। নিয়মিত অফিসে আগমন তদারকির জন্য প্রশাসন ও হিসাব বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে চালু করা হয়েছে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম। এর আগে থেকেই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে উপস্থিতির রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয় চট্টগ্রাম বন্দরে।

অতিমারির এই সংকটকালেও সর্বশেষ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এ সময়ে রেকর্ড ৪ হাজার ৬২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ১৭টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের তত্ত্বাবধানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, কাগজ ও অন্যান্য স্টেশনারি সামগ্রীর ব্যবহার মনিটরিং করা হয়। সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রতিদিন অফিস শুরুর আগে ও পরে সকল অফিস কক্ষ পরিষ্কার করা হয়। অতিমারির কারণে এর সাথে যোগ হয়েছে জীবাণুনাশক স্প্রে করা। বন্দরের স্থাপনাসমূহে বন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস ফায়ার ট্রাকের মাধ্যমে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে নিয়মিত। এছাড়া বন্দরের সকল দপ্তরে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি কার্যকরে পরিচালনা করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে শুদ্ধাচার

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। পরিচালন ব্যয়, উন্নয়ন ব্যয় ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে (সিএসআর) ব্যয়ের সঠিক হিসাব ও প্রতিবেদন দাখিল করতে হয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। প্রতিটি বিভাগের চাহিদা, উন্নয়ন প্রকল্প ও ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। এতে খাতওয়ারি ব্যয় নির্ধারণ করা হয় চাহিদামাফিক। এছাড়া সম্ভাব্য আয়ের খাত বিবেচনায় আয়েরও প্রক্ষেপণ করা হয়। চলতি অর্থবছরের বাজেট বইয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর আগের অর্থবছরের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয়, অনুমোদিত ব্যয়, সংশোধিত ব্যয় ও চলতি অর্থবছরের প্রাক্কলিত ব্যয় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়া বিগত পাঁচ অর্থবছরের আয়, ব্যয় ও উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে বাজেট বইয়ে।

শুদ্ধাচার-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনকারী সব ধরনের যানবাহন ও চালকদের ডাটাবেজের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে অনিবন্ধিত কোনো যানবাহন বা ব্যক্তি বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না।

অনলাইন বার্থিং সিস্টেম চালুর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্থিং শিডিউল নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি সেবাপ্রদানের আনুষ্ঠানিকতাও কমছে পর্যায়ক্রমে।

ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন

দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতে ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন চর্চার বিকল্প নেই। ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন অনুশীলনে উদ্ভাবন, সেবা সহজীকরণ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রয়োগ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও অভ্যন্তরীণ কাজের গুণগত পরিবর্তনে ই-গভর্ন্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার উদ্দেশ্য উদ্ভাবন, সেবা সহজীকরণ, ব্যয় কমানো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারকে সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক, প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং দায়বদ্ধতা সৃষ্টি।

করোনা অতিমারির এই সংকটকালেও চট্টগ্রাম বন্দর তার সর্বোচ্চ সেবা দিয়েছে স্টেকহোল্ডারদের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিসে কর্মরত একজন কর্মী মারা যান সংক্রমণের শুরুতেই। সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতাকে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে এখানে সেবা দিতে ও নিতে হয় বলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এ ঝুঁকি হ্রাসে চট্টগ্রাম বন্দরের পর্ষদ সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলমের নেতৃত্বে পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, টার্মিনাল ম্যানেজার মো. কুদরত-ই খুদা মিল্লাত ও উপপ্রধান প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীসহ একটি দল উদ্ভাবন করেন সেবাপ্রদানের আধুনিক এক পদ্ধতি। ‘রি-ইঞ্জিনিয়ারিং অব সিপিএ ওয়ান স্টপ সার্ভিস; আ সাসটেইনেবল সলিউশনস টু কমব্যাট প্যানডেমিক (কোভিড-১৯) সিচুয়েশন’ শীর্ষক এ পদ্ধতিতে পণ্য বা কনটেইনারের রিলিজ অর্ডার, এজেন্ট ডেলিভারি অর্ডারসহ ওয়ান স্টপ সার্ভিসের বেশ কিছু সেবা অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা শুরু হয়। ফলে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহজেই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দাখিল করা দলিলাদি ভেরিফাই করতে পারছেন। এটি কার্যকরের ফলে শারীরিক উপস্থিতি কমার সাথে সাথে সেবাপ্রদানের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। নতুন উদ্ভাবিত এ পদ্ধতিটি পুরোপুরি চালু হলে আরও কম সময়ে ও অধিক স্বচ্ছতার সাথে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সেবা অনলাইনেই পাবেন সেবাগ্রহীতারা। উদ্ভাবিত এ সেবার স্বীকৃতিও দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ‘উদ্ভাবক পুরস্কার-২০২১’ পেয়েছেন উদ্ভাবনী দলের দলনেতা সরকারের যুগ্ম সচিব ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম।

বন্দরে হ্যান্ডলিংকৃত জাহাজের বিল প্রথাগতভাবে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টকে পাঠানো হতো কাগুজে দলিল হিসেবে। অনলাইনসেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে এখন অনলাইনে বিল পাঠানো হয় শিপিং এজেন্টদের। দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টি সামনে রেখে বন্দরের অভ্যন্তরীণ নথির বেশির ভাগ ই-নথির মাধ্যমে সম্পাদন করা হচ্ছে। বন্দরের সেবা কার্যক্রম অটোমেশন (আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর) করার জন্য ৫০টি মডিউল তৈরির প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া স্টেকহোল্ডারদের সেবা সম্পর্কিত তথ্য জানাতে চালু করা হয়েছে কল সেন্টার।

সেবাপ্রদানে প্রতিশ্রুতি: সিটিজের চার্টার

চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব জনবল প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন। এ বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও স্টেকহোল্ডারদের সেবা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম বন্দরের রয়েছে সিটিজেন চার্টার। এতে নাগরিক সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা ও অভ্যন্তরীণ সেবা শ্রেণিতে সব ধরনের সেবার উল্লেখ রয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী সিটিজেন চার্টারে নাগরিক সেবা রয়েছে ৫১টি, প্রাতিষ্ঠানিক সেবা ৩২ এবং অভ্যন্তরীণ সেবা রয়েছে ৫৬টি। এসব সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে সিটিজেন চার্টারে সেবার নাম, সেবাপ্রদান পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রাপ্তিস্থান, সেবার মূল্য ও পরিশোধ পদ্ধতি, সেবাপ্রদানের সময়সীমা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল অ্যাড্রেস দেওয়া আছে।

সেবাপ্রদান বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের অবহিতকরণ

চট্টগ্রাম বন্দর তার স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে প্রতি বছর উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক করে থাকে। এতে প্রতিটি স্টেকহোল্ডার সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে বন্দরসেবা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাবনা দিয়ে থাকেন। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে উত্থাপিত সব মতামত, পরামর্শ ও প্রস্তাবনা আমলে নিয়ে কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। এছাড়া আগের বৈঠকের আলোচিত বিষয়ের অগ্রগতি উপস্থাপন করে স্টেকহোল্ডারদের অবহিত করে কর্তৃপক্ষ। করোনা অতিমারি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সর্বশেষ উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা

কোনো বন্দর ব্যবহারকারী সেবাপ্রাপ্তিতে অসন্তুষ্ট হলে বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সে বিষয়ে সমাধান দিতে ব্যর্থ হলে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) তা সমাধান করবেন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা হলেন পরিচালক (প্রশাসন) মো. মমিনুর রশিদ। তিনি সমাধান দিতে না পারলে আপিল নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (আনিক) হিসেবে বন্দরের পর্ষদ সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম এর সমাধান দেবেন। বন্দরের ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কিত সকল তথ্য হালনাগাদ করা আছে।

তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন

তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুসারে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাগরিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রদান করে থাকেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য হলে ২০ দিনের মধ্যে এবং এর সাথে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য প্রদান করতে হয়। আর তথ্য প্রদানে অপারগ হলে আবেদনের ১০ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তা জানিয়ে দিতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন করছে। তথ্যপ্রাপ্তির জন্য তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাছির উদ্দিন, বিকল্প কর্মকর্তা সিনিয়র পারসোনেল অফিসার (আইআর) মোহাম্মদ আজিজুল মওলা ও আপিলের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বরাবর আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অবাধ তথ্য সরবরাহের অংশ হিসেবে বন্দরের কার্গো, কনটেইনার ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের তথ্য প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা হয় বন্দরের ওয়েবসাইটে। বন্দরসেবা সম্পর্কিত যেকোনো অফিস আদেশ, বিজ্ঞপ্তি ও অনুরোধপত্রও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। বন্দরের বার্ষিক প্রতিবেদন (অ্যানুয়াল রিপোর্ট) প্রকাশ করা হয় ওয়েবসাইটে। এতে বন্দরের সার্বিক চিত্র উঠে আসে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম, সমস্যা, সম্ভাবনা, পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর হালনাগাদ তথ্য নিয়ে প্রকাশ করা হয় মেরিটাইম ম্যাগাজিন ‘বন্দরবার্তা’ ও ‘সিপিএ নিউজ’।

কর্মসম্পাদন চুক্তিতে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা

এপিএর কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে করোনা অতিমারি এখন একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে বন্দরে কর্মরত শতভাগ শ্রমিক-কর্মচারীদের টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। করোনার বৈশ্বিক সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব বন্দরের কার্যক্রমের ওপর পড়বে। এর সাথে অন্যান্য প্রতিকূলতা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি অর্থবছরের (২০২১-২০২২) বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা।

অপারেশনাল কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা

দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দরের কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবারের কর্মসম্পাদন চুক্তিতে। প্রতি ঘণ্টায় ৪০ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন কার্গো ও ১৬টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হ্যান্ডলিংয়ের এ হারে অর্থবছরের মোট হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ কোটি মেট্রিক টন কার্গো ও ২৮ দশমিক ৫০ লাখ টিইইউ কনটেইনার। করোনার প্রভাব বিবেচনায় গত অর্থবছরের ৯ মাসের প্রকৃত হ্যান্ডলিংয়ের ভিত্তিতে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে এবারের (২০২১-২০২২) কর্মসম্পাদন চুক্তিতে ১৯টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব প্রকল্পের প্রতিটি বন্দরের সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের সাথে জড়িত। এসব প্রকল্পের মধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের অবশিষ্ট ১২ শতাংশ কাজ শেষ করার মাধ্যমে কনটেইনার হ্যান্ডলিং শুরু করা, মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের ৩টি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান ও মূল্যায়ন মার্চের মধ্যে শেষ করা, ১০ জুনের মধ্যে ২টি টাগবোট ক্রয়ের কাজ শেষ করা, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বে-টার্মিনালের ব্রেক ওয়াটার নেভিগেশনাল অ্যাকসেস চ্যানেলের ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নে ১০ জুনের মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ করা, একই তারিখের মধ্যে বে-টার্মিনালের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, বে-টার্মিনালের ২ ও ৩ নম্বর টার্মিনালের বিজনেস কেস মডেল প্রণয়নের জন্য পরামর্শক নিয়োগ এবং ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে ২৮ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং অন্যতম। এসব লক্ষ্যমাত্রার সবগুলোই সর্বোচ্চ মান। এছাড়া কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ১০৪টি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ১২ লাখ ঘনমিটার সংরক্ষণ ড্রেজিং, ১৮টি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ চার্ট তৈরি, ৬টি জরিপ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ১০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ, বহুতল কার পার্কিং শেড নির্মাণ, সিসিটি ও এনসিটি এলাকায় ৪৪৮টি এলইডি লাইট স্থাপন, ডাটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ ও প্রতিস্থাপন, নিরাপত্তা বিভাগের অভিযান পরিচালনার জন্য যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারযান সংগ্রহ এবং বন্দর আবাসিক এলাকার রাস্তা মেরামত রয়েছে এবারের কার্মসম্পাদন চুক্তিতে।

শুদ্ধাচার ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা

সেবার গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ শুদ্ধাচারের শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। অনুমোদিত জনবলের কম লোকবল নিয়ে সর্বোচ্চ সেবাপ্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ৬২টি কোর্সের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া তিন মাস পর পর নৈতিকতা কমিটির সভা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, অভিযোগ প্রতিকারে দ্রুত ব্যবস্থা, ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ করা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভা, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও সব ধরনের সেবা ডিজিটালাইজড করার কাজকে এগিয়ে নিতে কর্মপরিকল্পনা ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবারের কর্মসম্পাদন চুক্তিতে।

এক নজরে চট্টগ্রাম বন্দরের তিন বছরের সাফল্য

বিগত তিন বছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির প্রায় সবগুলো সূচকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরই ফলে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির নির্দেশক কি-পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটরের সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের।

গত তিন অর্থবছরে প্রায় ৮৭ দশমিক ২৩ লাখ টিইইউ কনটেইনার ও ২৮ দশমিক ৯৭ কোটি মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং গড়ে যথাক্রমে ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ও ৫ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্ণফুলীর নাব্যতা রক্ষায় গড়ে প্রতি বছর ১৯ কিলোমিটার সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক সাময়িকী লয়েড’স লিস্টে বিশ্বের সেরা ১০০টি কনটেইনার বন্দরের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর তিন বছরে ৭১তম অবস্থান থেকে এগিয়ে ২০২০ সালে ৫৮তম অবস্থান অর্জন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং এলাকায় ওভার ফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড, ১ নং জেটির উজানে সার্ভিস জেটি এবং সদরঘাট এলাকায় একটি ৭৫ মিটার লাইটারেজ জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। বন্দর ভবনের নিরাপত্তা রক্ষায় অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেমের প্রবর্তন করা হয়েছে। বহির্নোঙরের সীমা ৭ নটিক্যাল মাইল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইলে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে বন্দরের জলসীমা ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গেট এন্ট্রি সিস্টেম পূর্বের তুলনায় আরও আধুনিক করা হয়েছে। এছাড়া কা-ারি-১২, ২টি মুরিং লঞ্চ, ২টি সাইট স্ক্যান সোনার, ২টি ইকো সাউন্ডার ও ১টি সি গোয়িং লো ফিবোর্ড হারবার টাগবোট (২০০০ বিএইচপি) সংগ্রহ করা হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে গত তিন অর্থবছরে ৯১টি কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে অতিমারি করোনার ধাক্কা সামলিয়ে বন্দরকে পুরোদমে সচল রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বন্দর হাসপাতালে ‘কোভিড-১৯’ এর নমুনা সংগ্রহ করা, আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পৃথক করোনা ইউনিট স্থাপন ও টিকাপ্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ২টি মোবাইল হারবার ক্রেন যুক্ত করার ফলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যন্ত্রপাতি সংযোজন ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো প্রকার জাহাজজট নেই। ‘কোভিড-১৯’ এর মধ্যেও বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সার্বক্ষণিক অর্থাৎ ২৪/৭ চালু রাখা হয়েছে।

এপিএর মাধ্যমে বন্দর পৌঁছবে অভীষ্ট লক্ষ্যে

রূপকল্প-২০৪১, এসডিজি, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন বা এলডিসি থেকে উত্তরণ যেটাই বলি না কেন, প্রত্যেকটিতে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ। এসব লক্ষ্য অর্জনে এপিএ কার্যকর ভূমিকা রাখছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এতে কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ছে, তেমনি লক্ষ্য অর্জনে পুরস্কৃত হচ্ছে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বিভাগ ও মন্ত্রণালয়। সরকারের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও বেশি দায়বদ্ধ ও বাস্তবমুখী করছে এপিএ। আরও বেশি সম্পৃক্তি ও নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করছে বন্দরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায়। এতে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ছে, উন্নত হচ্ছে কর্মসম্পাদনের মান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘সমৃদ্ধি আসার সহজ কোনো পথ নেই। প্রাণপণ লড়াই করে আমাদের সমৃদ্ধি আনতে হবে।’ তাই আমাদের এই পথেই হাঁটতে হবে। আর এ সমৃদ্ধি অর্জনে বন্দরের পথপ্রদর্শক বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বা এপিএ।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here