চট্টগ্রাম বন্দরকে কনটেইনার জটমুক্ত রাখতে লকডাউনে সব আমদানি করা পণ্য বেসরকারি আইসিডি থেকে খালাসের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। লকডাউনে কার্যক্রম সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৯ জুন এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বন্দর, কাস্টমস, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান লকডাউনকালে সব রকম আমদানি করা পণ্য বেসরকারি কনটেইনার ডিপো থেকে ডেলিভারি দেওয়ার পক্ষে অভিমত দেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
এ সময় বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসজনিত সংকটময় পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা। ক্রেতারা অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিত করছেন। এ সময় অতিরিক্ত চার্জ দিয়ে বেসরকারি আইসিডি থেকে পণ্য খালাস কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘গত বছর করোনা ও লকডাউন পরিস্থিতিতে কনটেইনার ডেলিভারির গতি শ্লথ হওয়ায় বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনারজট সৃষ্টি হয়, যা থেকে উত্তরণে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও দফায় দফায় বৈঠক করতে হয়েছে। ওই সময় সব কনটেইনার সরাসরি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে নিয়ে সেখান থেকে খালাসের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল। তাই ১ জুলাই থেকে ঘোষিত লকডাউনে যাতে অতীতের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তারই আগাম সতর্কতা হিসেবে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’