প্রথমবারের মতো সমুদ্রপথে চারাগাছ রপ্তানির সূচনা করল বাংলাদেশ। ৯ জুন ৮ প্রজাতির ৩ হাজার ৭৪৭টি চারাগাছের একটি চালান কাতারে রপ্তানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। ১৪ জুন মায়েরস্ক শিপিং লাইনের জাহাজ মায়েরস্ক জিয়ামেন চারাগাছের চালানটি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যায়। রপ্তানির উদ্দেশ্যে কনটেইনারে বোঝাই হওয়া চারাগাছের চালানের মধ্যে রয়েছে মাল্টার চারা ৭৯৫টি, জামরুলের ১৫২টি, লেবুর ৯৫০টি, নিমগাছের ১ হাজার ২৮০টি, বটগাছের ৪০টি, সফেদার ৩২০টি, কাঠবাদামের ১৭০টি এবং বাবলাগাছের চারা ৪০টি। কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং এই চারাগাছগুলো বাংলাদেশ থেকে কাতারে আমদানি করেছে।
কুমিল্লার লাকসামের বিজরা বাজারের প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিজরা এন্টারপ্রাইজ চারাগুলো রপ্তানি করেছে। রপ্তানির আগে চট্টগ্রামের চারাগুলো পতেঙ্গায় ইস্টার্ন লজিস্টিক ডিপোতে একটি ৪০ ফুটের হিমায়িত কনটেইনারে বোঝাই করা হয়।
বিজরা এন্টারপ্রাইজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উদ্বোধনকালে ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষিপণ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ‘‘এই মার্কেট কিন্তু কোনো দিন সংকুচিত হবে না।’’ ওই কথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৮ সাল থেকে চারাগাছ রপ্তানির চেষ্টা করে যাচ্ছি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বিমানে কয়েকবার চারাগাছ রপ্তানি করলেও এবারই প্রথম সমুদ্রপথে বাংলাদেশ থেকে চারাগাছ রপ্তানি করছি। বিমানে চারাগাছ রপ্তানি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই জাহাজে করে রপ্তানি শুরু করছি। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ কোটি ডলারের গাছ রপ্তানি করতে পারব আশা রাখি।’
কাতারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আল নাইমি ল্যান্ডস্ক্যাপিং এবং কুমিল্লার মেসার্স বিজরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু সুফিয়ান মারুফ বলেন, ‘কাতারে আমরা ২০ বছর ধরে চারাগাছের ব্যবসা করছি। ২০টিরও বেশি দেশ থেকে চারাগাছ কাতারে আমদানি করে বিক্রি করি। কিন্তু এবার নিজ দেশ থেকে জাহাজে করে প্রথমবারের মতো চারাগাছ নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাশের দেশ ভারতসহ ভিয়েতনাম ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই গাছ রপ্তানি করে। প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই খাতে পিছিয়ে আছে।’