সমুদ্রগামী জাহাজের উদ্যোক্তাদের এবারের বাজেট স্বস্তি দিয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোক্তারা যেসব দাবি জানিয়ে আসছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পূরণ করেছে সরকার। এত দিন এ খাতের উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ ২২ বছরের পুরোনো জাহাজ আমদানি করতে পারতেন। আবার কেনার পর পাঁচ বছরের আগে ওই জাহাজ বিক্রির কোনো সুযোগ ছিল না। দিতে হতো আগাম করও। তাই করভার তুলে দেওয়াসহ এ খাতের ব্যবসার ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার দাবি ছিল উদ্যোক্তাদের।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাঁর বাজেট বক্তব্যে সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট-সংক্রান্ত আদেশে পুরোনো জাহাজের আয়ুষ্কাল ২২ বছরের পরিবর্তে ২৫ বছর এবং আমদানির পর বিক্রয়ের সময়সীমা ৫ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর নির্ধারণের সুপারিশ করেন। আবার আগাম কর প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপনে আছে সমুদ্রগামী জাহাজের নামও। প্রজ্ঞাপনে পাঁচ হাজার টনের বেশি পণ্য পরিবহনক্ষমতার সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

নৌবাণিজ্য কার্যালয়ের গত এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পতাকাবাহী সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা এখন ৬৬। কেএসআরএম (এসআর শিপিং), মেঘনা গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, কর্ণফুলী লিমিটেড, এমজেএল বাংলাদেশ, ওরিয়ন গ্রুপসহ ১১টি শিল্প গ্রুপের হাতে সমুদ্রগামী জাহাজ রয়েছে। আগের তুলনায় কয়েক বছর ধরে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোয় জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর মেঘনা গ্রুপ, কর্ণফুলী লিমিটেডের মতো শিল্পগোষ্ঠী খাতটিতে নতুন করে বিনিয়োগ করেছে।

তিনটি সমুদ্রবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে সাড়ে ১০ কোটি টনের বেশি আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয় সমুদ্রপথে। এ পণ্যের খুব সামান্য অংশই দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সমুদ্রপথে পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। তবে জাহাজ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ওশান গোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে সব মিলিয়ে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন বাবদ ব্যয় আট বিলিয়ন ডলারের কম হবে না। এর মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ডলার বা পৌনে ৪ শতাংশ দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here