দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা আলোচনায় অবশেষে সফল পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) একটি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে, যার মাধ্যমে জলজ বাস্তুসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর উপায়ে মৎস্য আহরণ কর্মকান্দে সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। বৈশ্বিক মৎস্য আহরণ শিল্পে নতুন নিয়ম চালু করা সম্ভব হবে এই চুক্তির ফলে।
সম্প্রতি ডব্লিউটিও সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রী ও জাতীয় প্রতিনিধি দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চুক্তির বিষয়ে এই অগ্রগতি হয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বাদশ সম্মেলনের (এমসি১২) আগেই এ বিষয়ে বাকি আলোচনা সেরে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জোটটির সদস্যরা। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোকে ভিত্তি ধরেই চুক্তি চূড়ান্ত করা হতে পারে।
ডব্লিউটিওর প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা বৈঠক শেষে বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের জন্য সফল একটি দিন। দুই দশকের আলোচনায় আমরা এর আগে কখনোই এমন ইতিবাচক পরিসমাপ্তির কাছাকাছি উপনীত হইনি। টেকসই সমুদ্র অর্থনীতি গঠনে এই সিদ্ধান্ত খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
অতিরিক্ত মাত্রায় মৎস্য আহরণ বৈশি^ক সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। অথচ কিছু দেশের সরকার এ ধরনের কার্যক্রমে ভর্তুকি দিয়ে আসছে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের কমিটি অন ফিশারিজের তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর বৈশ্বিক মৎস্য খাতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ভর্তুকি দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ হাজার কোটি ডলার দেওয়া হয় জ্বালানি ভর্তুকি ও কর মওকুফের মতো কর্মসূচির অধীনে।
এই অনৈতিক চর্চা বন্ধের লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে আলোচনা চালিয়ে আসছে ডব্লিউটিও। কিন্তু সদস্য সরকারগুলোর মধ্যকার মতানৈক্যের কারণে এই দীর্ঘ সময়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।
২০২০ সালে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে আরোপিত বিধিনিষেধ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের জুলাইয়ে আরেক দফা দিনক্ষণ বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। গত মার্চে প্রথম নারী হিসেবে ডব্লিউটিওর মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইওয়েলা। তিনি চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই আলোচনায় চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইওয়েলার দাবিকৃত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি হবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইস্যুটি ডব্লিউটিওর জন্য মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ কেবল এই একটিই নয়, বরং আরও বেশ কয়েকটি ইস্যুতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এই অনৈক্য দূর করে অভিন্ন স্বার্থে সরকারগুলোকে কতখানি একাট্টা করতে পারে ডব্লিউটিও, সেটাই এখন দেখার বিষয়।