কমডোর (অব.) সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, (ট্যাজ), এনডিসি, পিএসসি, বিএন
জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে সুনীল অর্থনীতি। সীমিত স্থলভাগে দ্রুত বর্ধনশীল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানো অসম্ভব, এ সত্য সামনে রেখে নদীমাতৃক এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, বর্তমান পরিস্থিতি এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে মেরিটাইম অ্যান্ড রিভারাইন ইনসাইট বাংলাদেশ বইটিতে।
বৈশি^ক ও অভ্যন্তরীণ শিপিংয়ের প্রচলিত কাঠামো, নীতিমালা, নাবিক-অফিসারের কর্মসংস্থানের সুযোগসহ নৌপরিবহন শিল্পের সাথে যুক্ত বিষয়গুলোকে মোট ১৫টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে এখানে। প্রথম অধ্যায়ে এক নজরে বাংলাদেশের মেরিটাইম সম্পদ, অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নাতিদীর্ঘ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বইয়ের একেকটি অধ্যায়ে অপর দেশের সাথে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ট্রানজিট প্রটোকল, বঙ্গোপসাগর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য, আইএমও, জাহাজনির্মাণ, শিপ রিসাইক্লিং, নাবিকদের এসটিসিডব্লি¬উ কনভেনশন নিয়ে আছে বিস্তারিত আলোচনা। প্রতিটি অধ্যায়ের সাথে তথ্যসূত্র সংযুক্ত থাকায় বইটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধ।
বইটির লেখক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইএমও, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ব বিদ্যালয়, মিলিটারি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বহু দেশি-বিদেশি সংস্থায়, সেমিনারে তিনি অতিথি বক্তা ও প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এ দেশে মেশিন-রিডেবল সিডিসি, নাবিকদের অনলাইন ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম চালু হয়। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি একটি ফ্রিগেটসহ মোট পাঁচ নেভাল ভেসেল, নৌঘাঁটি, নেভি এভিয়েশন ইউনিটে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তার বহু গবেষণাপত্র ছাপা হয়েছে।
কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলামের মতো প্রথম সারির নৌ-প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও নৌ-প্রশাসকের অসামান্য অভিজ্ঞতায় তথ্যবহুল হলেও সেটি তথ্যে ভারাক্রান্ত না হয়ে ভাষার গুণে বরং প্রাঞ্জল, সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে। হার্ডকভারে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ঝকঝকে ছাপায় ১৯৮ পৃষ্ঠার মেরিটাইম অ্যান্ড রিভারাইন ইনসাইট বাংলাদেশ গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে দেশের মেরিটাইম খাত গবেষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বুক হতে যাচ্ছে।
ইংরেজি ভাষায় লিখিত বইটি ২০২০ সালে দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২ হাজার টাকা (২৫ মার্কিন ডলার)।
আইএসবিএন: ৯৭৮-৯৮৪-৩৪-৮২৪৯-৫