করোনার সংকটকালের সর্বশেষ অর্থবছরে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মক্ষমতা পরিমাপের সব সূচকেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় বন্দরে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কার্গো ও ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। এর আগের অর্থবছরে হয়েছিল ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন। সে হিসাবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বন্দরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৬ টিইইউ (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে)। এর আগের অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউ। সে হিসাবে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বন্দরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

সিঙ্গাপুর, কলম্বোসহ বিভিন্ন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে জট ও বড় জাহাজের সংকটে ঈদুল আজহার আগে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তৈরি পোশাকসহ অন্য রপ্তানি পণ্যের চালান জাহাজীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংকট উত্তরণে বন্দর ও স্টেকহোল্ডারদের জরুরি বৈঠকে নেওয়া হয়েছে সাত সিদ্ধান্ত

এছাড়াও একই অর্থবছরে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙর মিলে জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ৬২টি। এর আগের অর্থবছরে হয়েছিল ৩ হাজার ৭৬৪টি। সে হিসাবে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে বন্দরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। মাসটিতে আমদানি করা কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি করা কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ৬ লাখ ১ হাজার ৩১৫টি। সব মিলিয়ে ওই মাসে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল ১ কোটি ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানির ৯২ শতাংশেরও অধিক পণ্য এবং ৯৮ শতাংশ কনটেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিং করে থাকে। বন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাত হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। আর রাজস্ব আদায় হয় দৈনিক হাজার কোটি টাকার।

তবে করোনার দ্বিতীয় দফার কঠোর বিধিনিষেধেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচলে অবদান রাখা এই বন্দর চালু রাখতে বেশ আগেভাগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের লকডাউনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে সচল রাখা হয়েছে বন্দরের কার্যক্রম। অফিসের কাজে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হলেও অপারেশনাল কাজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here