নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন থেকে দেশের বৃহৎ শুল্কস্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ই-পেমেন্ট সিস্টেম পুরোদমে চালু হয়েছে। ১ জুলাই থেকে এই সেবা চালু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে আমদানিকারকরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই সিস্টেমে ইউজার আইডি দিয়ে আরটিজিএস (রিয়েল-টাইম গ্রস সেটলমেন্ট) গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই শুল্ক পরিশোধ করতে পারবেন। এতে ব্যবসায়ীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে। একই সাথে বন্ধ হবে নানা হয়রানি। এর আগে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাস্টম হাউসে এই সেবা আংশিকভাবে চালু হয়েছিল।

এই সিস্টেম চালু হওয়ায় জালিয়াতি, শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা তথ্য দিয়ে শুল্ককর বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়, আমদানি নথি প্রতি কাস্টম এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের টাকা আদায়সহ সকল অনৈতিক কাজ বন্ধ হবে। এছাড়া নতুন এই নিয়মে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির পর আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শুল্কস্টেশনে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করবে। শুল্কায়ন সেকশন থেকে সংশ্লিষ্ট চালানটিতে কত টাকা শুল্ককর পরিশোধ করতে হবে তা নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস একটি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে দুই লাখ টাকার বেশি শুল্ককর আরোপ হলে বাধ্যতামূলক ই-পেমেন্ট করতে হবে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সব আমদানিকারকের জন্য ই-পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এসাইকুডা সফটওয়্যারের মাধ্যমে (শুল্ক-সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সফটওয়্যার) আমদানিকারকের ইউজার আইডি ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ায় শুল্ক পরিশোধ করতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক মিনিট। ই-পেমেন্ট করতে ছয় ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর, অর্থবছর, কাস্টম হাউসের অফিস কোড, পরিশোধকৃত শুল্কের পরিমাণ, এআইএন নম্বর এবং ফোন নম্বর। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুল্ক পরিশোধ করা হলে আমদানিকারকের ফোন নম্বরে শুল্ক পরিশোধ-সংক্রান্ত কনফার্মেশন এসএমএস পেঁৗঁছে যাবে। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসাইকুডা সফটওয়্যার নেটওয়ার্কে শুল্ক পরিশোধ-সংক্রান্ত তথ্য আপডেট হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here