বাংলার নদ-নদীর সঙ্গে মিশে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

শোকের মাস আগস্ট। এই মাসেই ঘটেছিল ইতিহাসের নৃশংস ও মর্মস্পর্শী রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে। বাঙালির ইতিহাসের সে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায়। পৌরাণিক বর্ণনায় পাওয়া বঙ্গের অংশবিশেষ আজ যে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে ঠাঁই করে নিয়েছে, তার মূল কারিগর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষার ভিত্তিতে আত্মপ্রকাশ করা যে দেশটি আজ উন্নতির সোপানে এগিয়ে চলেছে, তার স্বপ্নদ্রষ্টা এই মহান নেতা। ধনে-ধান্যে সমৃদ্ধ একটি সোনার দেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাংলাদেশেরই উন্নয়নযাত্রার গলা টিপে ধরা হয়। তবে এই বাধা বেশি দিন  টেকেনি। লাখো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে দেশের জন্ম, তাকে এত সহজে দমিয়ে রাখা যায় না। আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তাঁর কন্যার নেতৃত্বে দেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুতোয় গাঁথা। বর্তমানে যেটি বাংলাদেশ, সেই অঞ্চলের ভূমিরূপ গঠনে বড় অবদান রেখেছে দুটি জগদ্বিখ্যাত নদী। তার একটি গঙ্গা বা পদ্মা, অন্যটি ব্রহ্মপুত্র। এ দুই যশস্বী স্রোতধারা বাহিত পলিমাটিতেই গড়ে উঠেছে বদ্বীপটি। সঙ্গে আরও কিছু নদীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে এখানকার জমি হয়েছে উর্বর। আর জালের মতো বিছিয়ে থাকা নদীগুলো গড়ে তুলেছে পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ-সাশ্রয়ী এবং সহজ নেটওয়ার্ক। আর এই নদ-নদীর সঙ্গে মিশে আছেন কালের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছিলেন, ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান, ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’ প্রাচীন বঙ্গ থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কী করে এল বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, সেই কথকতা নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের মূল আয়োজন।

চট্টগ্রাম বন্দরের কালপঞ্জি আর বাংলার ইতিহাস প্রায় একসূত্রেই গাঁথা। আজকের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক হৃৎপি- হিসেবে সক্রিয় রয়েছে, স্বাধীনতার পূর্বকালে, এমনকি দুই-আড়াই হাজার বছর ধরেই এটি এই জাতির প্রাণের আধান হিসেবে কাজ করে আসছে। বঙ্গবন্ধুর জীবনের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের নাম। শুরুটা হয়েছিল তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী যে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেন, সেখান থেকেই। সে সময় তিনি ঢাকার পরই গুরুত্ব দিয়েছিলেন চট্টগ্রামকে। এরপর নানা প্রয়োজনে তিনি অনেকবারই চট্টগ্রামের আতিথ্যগ্রহণ করেছেন। বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফার প্রথম আনুষ্ঠানিক জনসভা চট্টগ্রামেই হয়েছিল। আগরতলা মামলা পরিচালনার জন্য শেখ মুজিব ফান্ড গঠন, গণআন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারসহ সেসময়কার গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিল চট্টগ্রাম। স্বাধীনতার পরপরই অনন্য কূটনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজ ও মাইন অপসারণ করে পরিত্যক্ত চট্টগ্রাম বন্দরকে দ্রুততম সময়ে পুরোপুরি সচল করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি বন্দরে কাস্টমস ইয়ার্ড ও জেটি ঘুরে দেখেন এবং বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং এর নিরাপত্তা স্থল ও নৌবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করার ঘোষণা দেন। বঙ্গবন্ধু ও চট্টগ্রাম নিয়ে রয়েছে আমাদের বিশেষ আয়োজন।

প্রিয় পাঠক, আমরা চাই এ দেশের মেরিটাইম চর্চাকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তিতে দাঁড় করাতে। বৈচিত্র্যময় আঙ্গিকে, সমৃদ্ধ কলেবরে বন্দরবার্তার পথচলা বাংলাদেশের মেরিটাইম খাতের বিকাশে আরও সহায়ক হবে-সেই প্রত্যাশা। সবাইকে শুভেচ্ছা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here