যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৫ আগস্ট সকালে বন্দর ভবন চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান ও পর্ষদ সদস্যবৃন্দ। এরপর বন্দর অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিভাগীয় প্রধানগণ ও সিবিএ নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শোক দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। পরে তিনি বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ) আয়োজিত খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

জাতীয় শোক দিবসে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পর্ষদ সদস্যবৃন্দ

আলোচনাকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব কতটুকু। এজন্যই তিনি স্বাধীনতার পরে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রপতিকে বলেছিলেন দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাইন অপসারণ করে যেন চালু করা যায়। বঙ্গবন্ধুর কথাতেই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশেষ টিম পাঠিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচল করেছেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত একদিনের জন্যও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।’

এ সময় তিনি করোনা অতিমারির সময়ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং কর্মরত অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

বন্দর কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নায়েবুল ইসলাম ফটিকের সঞ্চালনায় ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আজিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের পর্ষদ সদস্যগণ, পরিচালকগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আলোচনা সভার আগে খতমে কোরআন করা হয় এবং আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বন্দরের পরিচালনাধীন মসজিদসমূহে বাদ জোহর দোয়া এবং মন্দির ও বৌদ্ধবিহারে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিটাইম-বিষয়ক প্রকাশনা বন্দর বার্তার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here