বর্তমানে মেরিটাইম নেভিগেশনে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রযুক্তির আশীর্বাদে এখন জাহাজ চলাচলের তথ্য-উপাত্ত রেকর্ড করা হচ্ছে সহজেই। কিন্তু আদিকালে এতসব ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা ছিল না। কিন্তু তাই বলে সেই সময়ে নেভিগেশনের তথ্য সংরক্ষণ থেমে থাকেনি। ডিজিটাল না হোক, নাবিকরা অ্যানালগ পদ্ধতিতে ঠিকই তাদের জাহাজের গতিপথ, দূরত্ব, গতিবেগ ইত্যাদি তথ্য টুকে রাখতেন।
অ্যানালগ যুগে জাহাজ চলাচলের দিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যেমন সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের ব্যবহার ছিল, ঠিক তেমনই ষোলো থেকে আঠারো শতক পর্যন্ত জাহাজের গতিপথ ও গতিবেগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হতো ট্রেভার্স বোর্ড। এটি আসলে এক ধরনের মেমোরি এইড যন্ত্র, যেটি ডেড রেকোনিং নেভিগেশনের কাজে ব্যবহৃত হতো।
মেরিটাইম নেভিগেশনে ডেড রেকোনিং হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে চলন্ত জাহাজের পূর্ব নির্ণীত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বর্তমান অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর কিছু হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে জাহাজের গতিবেগ, ভবিষ্যৎ গতিপথ ও অতিবাহিত সময়ের গতিপথ নির্ধারণ করা হয়। নাবিকদের জন্য এই ডেড রেকোনিংয়ের কাজটাই সহজ করে দিয়েছিল ট্রেভার্স বোর্ড। বিশেষ করে এমন একসময়ে, যখন নিরাপদ জাহাজ চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করত ক্রুদের দক্ষতার ওপর। আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থার কিছুই ছিল না সে সময়ে।
ষোলো শতকের স্বনামধন্য গণিতবিদ উইলিয়াম বর্নের ‘ওল্ড সল্ট’-এ ট্রেভার্স বোর্ডের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ট্রেভার্স বোর্ড হলো কাঠের তৈরি একটি বোর্ড, যেটি ঊর্ধ্ব ও নি¤œ-এই দুই অংশে বিভক্ত। ওপরের দিকে একটি কম্পাস আঁকা থাকে, যা পেগ ও কর্ডের মাধ্যমে নিচে থাকা কয়েকটি পেগ হোলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
যে সময়কালে ট্রেভার্স বোর্ড ব্যবহার করা হতো, সে সময় জাহাজীদের বেশির ভাগই লেখাপড়া জানতেন না। তবে এই বোর্ডের কার্যপ্রণালি এতটাই সহজ ছিল যে, লেখাপড়া না জানা ক্রু সদস্যরাও এটি ব্যবহার করতে পারতেন।