ষোলো শতকের একজন সুপরিচিত অটোমান-তুর্কি অ্যাডমিরাল পিরি রেইস। ভূগোলবিদ ও মানচিত্রকর হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে তাঁর। ১৫১৩ সালে পিরি রেইস একটি বিশ্বমানচিত্র প্রণয়ন করেন, যেটি ১৯২৯ সালে ইস্তাম্বুলের তপকাপি প্যালেসে আবিষ্কৃত হয়। একে সবচেয়ে পুরনো তুর্কি মানচিত্র বিবেচনা করা হয়, যেখানে নতুন বিশ্ব ও আমেরিকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ধারণা করা হয় ১৪৬৫ থেকে ১৪৭০ সালের মধ্যে কোনো একসময়ে তুরস্কের এজিয়ান উপকূলের গাল্লিপোলিতে তাঁর জন্ম। সমুদ্রজীবনের শুরুটা পনেরো শতকের শেষের দিকে; চাচার হাত ধরে। তাঁর চাচা কামাল রেইস ছিলেন সে সময়ের নামকরা নাবিক। চাচার সঙ্গে বেশকিছু লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। বিখ্যাত অটোমান অ্যাডমিরাল হায়রেদ্দীন বারবারোসার অধীনেও কাজ করেছেন। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অটোমান বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৫৪৭ সালে রেইস (অ্যাডমিরাল) হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। তার পরের বছর পর্তুগিজদের কাছ থেকে এডেনের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন তিনি। ১৫৫২ সালে দখল নেন মাস্কটের, যেটি ১৫০৭ সাল থেকে পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৫২১ সালে কিতাব-ই-বাহরিয়ে (বুক অব নেভিগেশন) বই লেখার কাজ শেষ করেন। এতে বেশ কিছু মানচিত্র ও নকশার সন্নিবেশ ঘটান, যার কারণে তিনি পরবর্তী প্রজন্মের সমুদ্রচারীদের কাছে গুরুত্ববহ হয়ে ওঠেন। চাচার সঙ্গে ভূমধ্যসাগর ভ্রমণকালে তিনি এই নকশাগুলো আঁকেন।
১৫১১ থেকে ১৫২১ সালের মধ্যে তিনি কিতাব-ই-বাহরিয়ে লেখেন। পরবর্তী ১৫২৪ ও ১৫২৫ সালে বইটিতে কিছু সংশোধন ও পরিমার্জন এনে বিখ্যাত অটোমান সুলতান সুলেমানকে উপহার দেওয়া হয়। ১৫৫৪ অথবা ১৫৫৫ সালে এই দিকপাল নাবিক ও অ্যাডমিরাল মৃত্যুবরণ করেন।