দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনঃতফসিল করতে ৪ শতাংশ সুদে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চান জাহাজ নির্মাণ ও শিল্প খাতের ব্যবসায়ীরা। পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্মত।
অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডার্স ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ (এইওএসআইবি) পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৯ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়, এ ব্যাপারে তাদের কোনো নেতিবাচক মতামত নেই। জাহাজ নির্মাণশিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের সময় শিল্প মন্ত্রণালয়কেও গত বছর এ কথা জানানো হয় বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাণিজ্য সচিবকে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন করে ঋণ নিয়ে বিদ্যমান ঋণের দায় পরিশোধ বা সমন্বয় করা শৃঙ্খলাপরিপন্থী। এক বছর আগেই এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো তা পরিপালন করছে কিনা, তা তদারকও করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
চিঠিতে আরও জানানো হয়, রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণশিল্পের ঋণ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক হিসাব করে ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়া ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়। বলা হয়, তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পরের ১০ বছরে অর্থাৎ মোট ১৩ বছরে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে।
কোভিড-১৯ এর কারণে চলতি ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ঋণের স্থিতির পরিমাণ বিবেচনায় ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মেয়াদি ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সময় বাড়ানো যাবে। তবে এই সময়সীমা কোনোভাবেই দুই বছরের বেশি হবে না। সেই হিসাবে ১৩ বছরের সঙ্গে আরও দুই বছর যোগ হয়।