কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে এখন যেকোনো সময় ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। জেটিতে যত বেশি গভীরতার জাহাজ ভেড়ানো যায়, তত বেশি পণ্য পরিবহন করা যায়। তাতে যেমন পণ্য পরিবহনের খরচ কমে, তেমনি বন্দরের সক্ষমতাও বাড়ে। বন্দর সুবিধার বড় উপাদান এটি।
চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে এখন সর্বোচ্চ সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশ) বা গভীরতার জাহাজ ভেড়ানো যায়। মোংলা বন্দরে তা সাত থেকে সাড়ে সাত মিটার। আর চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন প্রকল্প মাতারবাড়ীতে তা ১০ মিটার, যেটি ধাপে ধাপে উন্নীত হবে।
চলতি বছর ডিসেম্বরে মাতারবাড়ীতে কয়লা খালাসের ৩০০ মিটার জেটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তাতে আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটিতে কয়লাবাহী বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘জাহাজের ড্রাফট বা গভীরতা বিবেচনা করলে এখনই সবচেয়ে বেশি সুবিধা মাতারবাড়ীতে। জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বন্দর সেখানে সব আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে। তখন সুবিধা পাবে আমদানি-রপ্তানিবাণিজ্য। আর সড়ক সংযোগ চালু হলে ২০২৬ সাল থেকে পুরোদমে সুফল মিলবে এই টার্মিনালের।
মাতারবাড়ী নৌপথে এত দিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ প্রকল্পের জ¦ালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছিল। সে জন্য সাময়িক সময়ের জন্য নৌপথের একাংশ ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। তাতে ৯ মিটার গভীরতার বেশি জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ ছিল না জেটিতে। এখন ওই অংশে পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ফলে নৌপথটিতে এখন ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ আনা-নেওয়ায় আর বাধা নেই।