খুব অল্প সময় বেঁচে ছিলেন এস্তেভ্যানিসিও (মুস্তাফা আজেমৌরি)। ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম তাঁর। মৃত্যু ১৫৩৯ সালে। সময়ের বিচারে ক্ষণজন্মা হলেও সমুদ্র অভিযানের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্থায়ী। আয়ু স্বল্প হলেও জীবনের পটপরিবর্তনের অভিজ্ঞতা তাঁর কম হয়নি। তিনি ‘আমেরিকায় পা দেওয়া প্রথম মহান আফ্রিকান’।
তাঁর জন্ম কিংবা বংশপরিচয় নিয়ে বেশি জানা যায় না। কেউ তাঁকে মুর জাতিগোষ্ঠীর বলে ধারণা করেন, কেউ তাঁকে নিখাদ আফ্রিকান নিগ্রো বলে থাকেন। কেউ আবার মনে করেন, তাঁর পূর্বপুরুষরা সাব-সাহারা আফ্রিকার অধিবাসী ছিল। যে ঘটনাপ্রবাহের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়, তা তাঁর তরুণ বয়সের পরবর্তী সময়ের।
১৫২২ সালের দিকে কোনো এক কারণে এস্তেভ্যানিসিও গ্রেপ্তার হন এবং তাকে মরক্কোর আজেমৌর শহরে এক বনেদি ব্যক্তির কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করা হয়। সেই ব্যক্তি ছিলেন স্প্যানিশ। স্বভাবতই সমুদ্র অভিযানের নেশা ছিল তাঁর রক্তে। তাঁর একটি অভিযাত্রী দল ছিল, যেখানে দাস হিসেবে বিক্রি হওয়া সেই তরুণটিও যোগ দিতে চাইছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন আফ্রিকান মুসলিম। আর স্পেনে তখনকার নিয়ম অনুযায়ী নন-ক্যাথোলিক কোনো ব্যক্তি নতুন বিশ্বের সন্ধানে অভিযানে যেতে পারত না। এ কারণে সেই তরুণটিকেও ধর্মান্তরিত হতে হয়। এ সময় তিনি সেই নাম গ্রহণ করেন, যা দিয়ে আজও বিশ্ব তাঁকে চেনে।
ধর্মান্তরিত হওয়ার পর সেই তরুণের স্প্যানিশ অভিযাত্রী দলটিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না। এরপর তিনি যা করলেন, তা ইতিহাস। ১৫২৭ সালে প্রথম আফ্রিকান হিসেবে উত্তর আমেরিকায় পা রাখেন তিনি। ‘লা ফ্লোরিডা’ (বর্তমানের ফ্লোরিডা ও এর আশপাশের অনাবিষ্কৃত অঞ্চল) অভিযানের এই সাফল্য একজন আফ্রিকান দাসকে অমরত্ব দান করেছে।