করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের জাহাজ রপ্তানি খাত নিয়ে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে চীনের জাহাজ নির্মাণশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ন্যাশনাল শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি (সিএএনএসআই)। সংগঠনটি বলেছে, ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ জাহাজ রপ্তানির জন্য ১৫০ কোটি (১.৫ বিলিয়ন) ডলার অর্ডার পাবে। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজ রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ১ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছিল। বিশ^বাজারে ২০২০-২১ অর্থবছরে এক টাকার জাহাজও রপ্তানি করতে পারেনি রপ্তানিকারকরা। এ কারণে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় মাত্র ২ হাজার ডলার। মহামারির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নামমাত্র এই লক্ষ্য ধরে সরকার। হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন এ খাতের রপ্তানিকারকরাও। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সুদিন ফিরছে। অন্যান্য পণ্যের মতো জাহাজের চাহিদাও বাড়ছে ব্যাপকভাবে। প্রায় ২ বছর ১০ মাস পর জাহাজ রপ্তানির কার্যাদেশ পেয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এফএমসি ডকইয়ার্ড সুদান থেকে এই কার্যাদেশ পেয়েছে। নেদারল্যান্ডস, চীন, তুরস্ক ও ভারতের সঙ্গে দরপত্রে প্রতিযোগিতা করেই এই কার্যাদেশ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে জাহাজ রপ্তানিতে দীর্ঘ সময়ের খরা কাটতে শুরু করেছে। শুধু এফএমসি ডকইয়ার্ড নয়, দেশের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন, আনন্দ শিপইয়ার্ডসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও কার্যাদেশ পাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here