গত পাঁচ বছরে নর্দার্ন সি রুটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বেড়েছে পাঁচ গুণ। ২০১৯ সালে এই রুটে ৩৭টি যাত্রা সম্পন্ন করা হলেও ২০২০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪-তে। সে বছর ৩ কোটি ৩০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে এই বাণিজ্যপথ দিয়ে। সার্বিকভাবে ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বেড়েছে ২৫ শতাংশ।
২০১৯ সালে ৯৭৭টি জাহাজ আইএমওর আর্কটিক পোলার কোড এরিয়ায় প্রবেশ করেছিল। কানাডায় আকরিক লোহা উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে বাল্ক ক্যারিয়ারের চলাচল বেড়েছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে। ধারণা করা হচ্ছে, নর্দার্ন সি রুট দিয়ে পণ্য পরিবহন ২০৩০ সাল নাগাদ বেড়ে বার্ষিক ১০ কোটি টনে দাঁড়াতে পারে।
এই যে ক্রমশ প্রবৃদ্ধি, তা সম্ভব হচ্ছে সি আইসের পরিমাণ প্রতি বছর কমে যাওয়ার কারণে। ইউএস ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টারের তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে আর্কটিকে সি আইসের গড় বিস্তার ৬১ লাখ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে ৪৩ লাখ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে।
এছাড়া গত মার্চে কনটেইনার জাহাজ এভার গিভেন আটকে যাওয়ার কারণে সুয়েল খালে তৈরি জটও শিপিং কোম্পানিগুলোকে নর্দার্ন সি রুট ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে। এ পথে এশিয়া থেকে ইউরোপে যেতে গেলে প্রথাগত রুটের চেয়ে ৪ হাজার নটিক্যাল মাইল পথ কম পাড়ি দিতে হয়।
নর্দার্ন সি রুটে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক কম থাকার বেশকিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত উদ্বেগ। পরিবেশগত প্রভাবের কারণে অনেকে এই রুট পারতপক্ষে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।