ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি বাংলাদেশ তো বটেই, এই সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পন্নের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক কভাবেও বড় ঘটনা। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বাংলাদেশের পক্ষে যাওয়ায় এটিকে ‘সমুদ্র বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ের পর এই সমুদ্র বিজয় বাংলাদেশের জন্য অনন্য অর্জন। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের ন্যায়সঙ্গত মালিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এ দেশ। বিশাল টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমা, সুবিস্তৃত কন্টিনেন্টাল শেলফ তো রয়েছেই, এর সঙ্গে বাংলাদেশ পেয়েছে বিশাল পরিসরের মেরিটাইম জোন, যা এর মোট স্থলসীমার প্রায় সমান।
এই প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই সমুদ্রসম্পদ নিশ্চিতভাবেই দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে। তবে এই সম্ভাবনার সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কিছু চ্যালেঞ্জ হবে নাছোড়বান্দা। এগুলো অতিক্রম করা খুব একটা সহজ হবে না।
বইটিতে বাংলাদেশের সমুদ্রকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সমুদ্র অধিকার নিয়ে যত ঘটনা ঘটেছে, তা তুলে ধরা হয়েছে এতে। সঙ্গত কারণেই মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
যেকোনো অর্জনই আনন্দদায়ক। তবে তা তখনই ইতিবাচক ফল বয়ে আনে যখন তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশকেও এই নব্য অর্জিত সমুদ্রসীমার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সামুদ্রিক সম্পদের অনুসন্ধান, আহরণ, নেভিগেশন ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। বইটিতে লেখক সেই বিষয়ের ওপর বারবার গুরুত্বারোপ করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব জুড়ে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হলো সমুদ্র অর্থনীতি। সমুদ্র বিজয়ের পর বাংলাদেশের জন্যও এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় নীতিগত পরিকল্পনা কীরূপ হওয়া উচিত, সে বিষয়টিও উঠে এসেছে বইটিতে।
বাংলাদেশের সমুদ্রনীতি নিয়ে একটি পরিপূর্ণ গবেষণাপত্র বলা যেতে পারে বইটিকে। দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ে যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্যও আকরগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবুল কালামের লেখা বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৫২। এর পেপারব্যাক সংস্করণের মূল্য ৩৭ পাউন্ড। এটি প্রথম প্রকাশ হয় ২০২০ সালের ৩০ জুন রাউটলেজ থেকে।